‘তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীর ঢুকে পড়া অনভিপ্রেত’, আই-প্যাক কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য
‘তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীর ঢুকে পড়া অনভিপ্রেত’, আই-প্যাক কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26


‘তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীর ঢুকে পড়া অনভিপ্রেত’, আই-প্যাক কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আই-প্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধল দেশের শীর্ষ আদালত। ইডি (ED) বা কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত চলাকালীন কেন একজন মুখ্যমন্ত্রীকে সেখানে হস্তক্ষেপ করতে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, "তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনও মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে ঢুকে পড়া অত্যন্ত অনভিপ্রেত ঘটনা।"
মামলার প্রেক্ষাপট: আই-প্যাক ও ত্রিপুরা বিতর্ক
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে, যখন ত্রিপুরার একটি হোটেলে আই-প্যাকের সদস্যদের আটকে রাখা এবং পরবর্তী আইনি টানাপড়েন নিয়ে শোরগোল পড়েছিল। সেই সময় কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয়। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ
এদিন শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট জানায় যে, আইনি প্রক্রিয়ায় পদমর্যাদার ব্যবহার কাম্য নয়। আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী:
তদন্তে বাধা: কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া বা সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো আইনি ব্যবস্থার পরিপন্থী।
সাংবিধানিক মর্যাদা: একজন মুখ্যমন্ত্রী একটি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান, তাঁর আচরণে নিরপেক্ষতা থাকা বাঞ্ছনীয়।
অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ: তদন্তের গভীরে না গিয়েও আদালত মনে করছে, এই ধরনের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে যাওয়া বা সরাসরি হস্তক্ষেপ করা মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করে যে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে কাজ করতে দিচ্ছে না। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের একাংশের দাবি, আইনি লড়াইয়ে তারা বরাবরই সহযোগিতা করে আসছে এবং পরিস্থিতির ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
"আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তদন্তকারী সংস্থাকে তার নিজের গতিতে কাজ করতে দেওয়া উচিত, সেখানে কোনও প্রশাসনিক পদের ছায়া পড়া উচিত নয়।" — আইনজীবী মহলের একাংশ
