বিজেপিতে যোগ দিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের পঞ্চম প্রজন্মের সদস্য; 'বঙ্কিমদা' বিতর্কে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা?
বিজেপিতে যোগ দিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের পঞ্চম প্রজন্মের সদস্য; 'বঙ্কিমদা' বিতর্কে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা?
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26


বিজেপিতে যোগ দিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের পঞ্চম প্রজন্মের সদস্য; 'বঙ্কিমদা' বিতর্কে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা?
কলকাতা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের পঞ্চম প্রজন্মের সদস্য সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিলেন। সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
কিছুদিন আগেই সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বঙ্কিমচন্দ্রকে 'বঙ্কিমদা' বলে সম্বোধন করায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বিরোধীরা একে বাঙালির সংস্কৃতি ও আইকনের প্রতি অসম্মান বলে দাবি করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাহিত্যসম্রাটের উত্তরসূরিকে দলে টেনে সেই বিতর্কে 'প্রলেপ' দেওয়ার চেষ্টা করল গেরুয়া শিবির।
যোগদান ও অভিযোগ
রাজ্য শ্রম দপ্তরের প্রাক্তন আধিকারিক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় এদিন বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার পর সরাসরি রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন। তিনি বলেন:
কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন: রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ থেকে কয়েক লক্ষ বেকার যুবকের নাম বাদ দিয়ে 'এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক' করা হয়েছে, যা আসলে একটি প্রচারসর্বস্ব ব্যবস্থা।
যুবশ্রী প্রকল্প: বর্তমানে যুবশ্রী প্রকল্পে যে ভাতা দেওয়া হয়, তাকে বেকার যুবকদের সাথে 'তামাশা' বলে অভিহিত করেন তিনি।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বঙ্কিমচন্দ্রের 'বন্দেমাতরম' এদেশের জাতীয়তাবাদের মেরুদণ্ড। তাঁর পরিবারের সদস্যের বিজেপিতে আসা দলের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, এই যোগদান প্রমাণ করে যে বাংলার শিক্ষিত ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারগুলি এখন পরিবর্তনের পক্ষে।
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের সদস্যরা তাঁর পৈতৃক বসতবাড়ির সংস্কার এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গত সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসে সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং পরিবারের অন্য এক সদস্য সজল চট্টোপাধ্যায় বিজেপি নেতৃত্বের উপস্থিতিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছিলেন।
এই যোগদানের মাধ্যমে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বাঙালি আবেগ ও জাতীয়তাবাদের তাস আরও জোরালোভাবে খেলল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।
শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় হাওড়া
