‘গুটখার খরচও দিদিই দেবেন!’—‘যুব সাথী’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ময়নাগুড়ির তৃণমূল নেতার
‘গুটখার খরচও দিদিই দেবেন!’—‘যুব সাথী’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ময়নাগুড়ির তৃণমূল নেতার
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26


‘গুটখার খরচও দিদিই দেবেন!’—‘যুব সাথী’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ময়নাগুড়ির তৃণমূল নেতার
জলপাইগুড়ি: রাজ্য সরকারের ‘যুব সাথী’ প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্কের ঝড় উঠল ময়নাগুড়িতে। এক তৃণমূল নেতার মন্তব্য—“গুটখার খরচও দিদিই দেবেন”—ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীরা এই মন্তব্যকে “অপমানজনক” এবং “দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে কটাক্ষ করেছে, যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ দাবি করেছেন, বক্তব্যটি প্রসঙ্গের বাইরে তুলে ধরা হচ্ছে।
একটি দলীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই নেতা যুব সাথী প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে বলতে গিয়ে মন্তব্য করেন, রাজ্য সরকার যুবকদের পাশে রয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে সহায়তা দিচ্ছে। সেই প্রসঙ্গেই তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে বিতর্কিত মন্তব্যটি, যার ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য যুবসমাজকে ভুল বার্তা দেয় এবং সরকারি প্রকল্পের উদ্দেশ্যকেই খাটো করে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে “অতিরঞ্জিত প্রচার” করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই নেতাদের বক্তব্য সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের বক্তব্য, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য যুবকদের আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, কোনওভাবেই নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনা সমর্থনযোগ্য নয়। দলের ভেতরেও এই মন্তব্য নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা সব দলই করে থাকে। কিন্তু নেতাদের বেফাঁস মন্তব্য অনেক সময় সেই প্রচারের বদলে উল্টে বিতর্কই বাড়িয়ে দেয়। ময়নাগুড়ির এই ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনে দিল।
বিশ্লেষণ:
‘যুব সাথী’ প্রকল্প রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রচারযোগ্য কর্মসূচি। কিন্তু প্রকল্পের সাফল্য বা সীমাবদ্ধতা নিয়ে যুক্তিযুক্ত আলোচনা হওয়ার বদলে যদি বেফাঁস মন্তব্যই শিরোনাম হয়ে ওঠে, তবে রাজনৈতিকভাবে তা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করাই স্বাভাবিক—ময়নাগুড়ির ঘটনা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
