শুল্ক কমানোর কূটনীতি—আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন, লাভের অঙ্ক না চাপের রাজনীতি?

শুল্ক কমানোর কূটনীতি—আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন, লাভের অঙ্ক না চাপের রাজনীতি?

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিবিদেশদেশ

2/8/20261 min read

শুল্ক কমানোর কূটনীতি—আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন, লাভের অঙ্ক না চাপের রাজনীতি?

আমেরিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতা ঘিরে অর্থনীতি ও রাজনীতির অন্দরমহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের জন্য মার্কিন বাজার আরও খুলবে, রপ্তানি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিল্প ও পরিষেবা খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন—এই সুবিধা পেতে দিল্লিকে ঠিক কতটা ছাড় দিতে হচ্ছে?

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বড় অঙ্কের আমদানি প্রতিশ্রুতি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, এর মধ্যে কূটনৈতিক বাস্তবতাও কাজ করে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলি প্রায়শই বাজার প্রবেশাধিকারের বিনিময়ে শর্ত চাপায়—এটাই বিশ্ব বাণিজ্যের অলিখিত নিয়ম। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ভারতের ক্ষেত্রে সেই চাপ কতটা কার্যকর হয়েছে।

কৃষি ও শিল্প—দুটি ক্ষেত্রেই সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিদেশি পণ্য বাজারে ঢুকলে প্রতিযোগিতা বাড়ে, দাম কমতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদকদের উপর চাপও বাড়ে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে এই চাপ কতটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্পমেয়াদে লাভ দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন কাঠামোর উপর প্রভাব পড়তে পারে।

রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যু নিয়ে তর্ক তুঙ্গে। বিরোধীদের অভিযোগ, বড় শক্তির সঙ্গে চুক্তি করতে গিয়ে দেশের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত রাখা হয়েছে, তার পূর্ণ তথ্য সামনে আনা উচিত। তাদের দাবি, শুধু শুল্ক কমার সম্ভাবনার কথা বললে হবে না—আমদানি বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং দেশীয় বাজারের উপর প্রভাব—সব দিক খোলাখুলি আলোচনা হওয়া দরকার।

অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য, বিশ্বায়নের যুগে বড় বাজারের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, এবং নতুন সুযোগ তৈরি করতে গেলে কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতা করতেই হয়। সরকারের দাবি, সংবেদনশীল খাতগুলিকে সুরক্ষিত রেখেই এই নীতি নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, এই চুক্তি এখন শুধুই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, রাজনৈতিক বিতর্কেরও কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। লাভের অঙ্ক কতটা বাস্তব আর ঝুঁকির হিসাব কতটা গভীর—তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, বিশ্ব বাণিজ্যের কঠিন বাস্তবতায় প্রতিটি সমঝোতার আড়ালেই থাকে লাভ-ক্ষতির সূক্ষ্ম এবং অনেক সময় অস্বস্তিকর সমীকরণ।