মাদ্রাসা নিয়ে বিতর্কে তপ্ত বিধানসভা, অগ্নিমিত্রার মন্তব্যে ক্ষোভ ফিরহাদের, চরমে রাজনৈতিক তরজা

মাদ্রাসা নিয়ে বিতর্কে তপ্ত বিধানসভা, অগ্নিমিত্রার মন্তব্যে ক্ষোভ ফিরহাদের, চরমে রাজনৈতিক তরজা

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

2/8/20261 min read

মাদ্রাসা নিয়ে বিতর্কে তপ্ত বিধানসভা, অগ্নিমিত্রার মন্তব্যে ক্ষোভ ফিরহাদের, চরমে রাজনৈতিক তরজা

রাজ্য বিধানসভায় মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে মন্তব্য ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হল। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কড়া ভাষায় প্রশ্ন তুলে দাবি করেন, রাজ্যের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন এবং নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র প্রতিবাদে সরব হয় সভাকক্ষ।

অগ্নিমিত্রা পলের বক্তব্যের পরপরই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম কড়া আপত্তি জানান। তিনি বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য শুধু একটি শিক্ষা ব্যবস্থাকেই নয়, একটি সম্প্রদায়কেও অকারণে সন্দেহের মুখে ঠেলে দেয়। প্রমাণ ছাড়া এভাবে মন্তব্য করা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তাঁর বক্তব্যে শাসকদলের বিধায়কেরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান, অন্যদিকে বিরোধী বেঞ্চ থেকেও পাল্টা স্লোগান ওঠে। ফলে কিছু সময়ের জন্য বিধানসভার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবেই নির্বাচনের আগে মেরুকরণের রাজনীতি উসকে দিতে চাইছে এবং শিক্ষা ও ধর্মের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার করা হচ্ছে। ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, “রাজ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা একটি স্বীকৃত ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে চলে। সেখানে আধুনিক শিক্ষা, বিজ্ঞান, গণিত সবই পড়ানো হয়। বাস্তব তথ্যকে বিকৃত করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”

অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, তারা কেবলমাত্র স্বচ্ছতা ও নজরদারির দাবি তুলেছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, সরকারের উচিত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ করা, যাতে কোনও সন্দেহের অবকাশ না থাকে।

এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিধানসভার বাইরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও চরমে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে দলীয় মঞ্চ—সব জায়গাতেই চলছে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভোটের আগে এ ধরনের ইস্যু সামনে এনে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা নতুন নয়, তবে ধর্ম ও শিক্ষার প্রশ্ন জড়িয়ে পড়লে বিতর্ক আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে, একটি মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংঘাতের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে, এবং বিধানসভা থেকে রাস্তাঘাট—সব জায়গাতেই এই তরজার রেশ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।