মার্চের শেষে ‘মাওবাদী খতম অভিযান’ শেষের পথে, ছত্তিশগড়ে আত্মসমর্পণ করল ৯ শীর্ষ মাওবাদী নেতা

মার্চের শেষে ‘মাওবাদী খতম অভিযান’ শেষের পথে, ছত্তিশগড়ে আত্মসমর্পণ করল ৯ শীর্ষ মাওবাদী নেতা

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিদেশ

1/26/20261 min read

মার্চের শেষে ‘মাওবাদী খতম অভিযান’ শেষের পথে, ছত্তিশগড়ে আত্মসমর্পণ করল ৯ শীর্ষ মাওবাদী নেতা

রায়পুর/নয়াদিল্লি: কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ নিরাপত্তা অভিযানের ফল হিসেবে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষে দেশে মাওবাদী দমন অভিযান কার্যত শেষ পর্যায়ে পৌঁছতে চলেছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ছত্তিশগড়ে ৯ জন শীর্ষ মাওবাদী নেতা আত্মসমর্পণ করেছেন, যাদের মধ্যে একাধিক নেতার মাথার উপর মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষিত ছিল।

নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, আত্মসমর্পণকারী এই ৯ জন মাওবাদী নেতা দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সামরিক ও কৌশলগত শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন শীর্ষ নেতার মাথার উপর ৪৭ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা ছিল। ওই নেতা একাধিক নাশকতা, নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা এবং প্রশাসনিক কর্মীদের হত্যার ঘটনায় যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।

ছত্তিশগড় পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চালানো এলাকা ঘিরে ফেলা অভিযান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টার্গেটেড অপারেশন এবং আত্মসমর্পণ নীতির সম্মিলিত প্রভাবেই এই সাফল্য এসেছে। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক সংক্রান্ত নথি এবং সাংগঠনিক তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে মাওবাদী প্রভাবিত জেলাগুলিতে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে বড় ধাক্কা খেয়েছে সংগঠনটি। বহু শীর্ষ নেতা হয় নিহত হয়েছে, নয়তো গ্রেপ্তার অথবা আত্মসমর্পণ করেছে। এর ফলে সংগঠনের রসদ, যোগাযোগ ও নেতৃত্ব কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা ও মহারাষ্ট্রের মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় হিংসার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একাধিক দুর্গম এলাকায় রাস্তা, মোবাইল টাওয়ার এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে ওঠায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর মাওবাদীদের প্রভাবও কমেছে।

আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসন নীতি অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে সংগঠন আবার মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে জন্য সীমান্তবর্তী জঙ্গল এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা মহলের মতে, ২০২৬ সালের মার্চের শেষে মাওবাদী দমন অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হলে তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে