“সংবিধানের প্রতি আস্থা প্রকাশ অপরাধ নয়” — মমতার সওয়াল ঘিরে হিন্দু মহাসভার আবেদনে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ
“সংবিধানের প্রতি আস্থা প্রকাশ অপরাধ নয়” — মমতার সওয়াল ঘিরে হিন্দু মহাসভার আবেদনে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26


“সংবিধানের প্রতি আস্থা প্রকাশ অপরাধ নয়” — মমতার সওয়াল ঘিরে হিন্দু মহাসভার আবেদনে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ
সংবিধানের প্রতি আস্থা প্রকাশ করা কোনওভাবেই অপরাধ বা অসাংবিধানিক কাজ নয়—এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করলেন প্রধান বিচারপতি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে ঘিরে দায়ের হওয়া হিন্দু মহাসভার আবেদনের শুনানিতে। আদালতের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের আগুন উসকে দিয়েছে।
আবেদনকারীদের দাবি ছিল, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করা হয়েছে এবং তা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। কিন্তু শুনানির সময় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দেয়, গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে সংবিধানের প্রতি আস্থা প্রকাশ করা বা সাংবিধানিক মূল্যবোধের পক্ষে বক্তব্য রাখা মৌলিক অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেন, “সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ নথি। তার প্রতি আস্থা ব্যক্ত করা কোনও ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির পক্ষে অস্বাভাবিক নয়।” একই সঙ্গে আদালত ইঙ্গিত দেয়, রাজনৈতিক মতভেদ বা বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে, যা বিচারব্যবস্থার উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করছে।
এই পর্যবেক্ষণের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, আদালতের মন্তব্য প্রমাণ করে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের একাংশ বলছে, বিষয়টি কেবল আইনি নয়, নৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও বিচার হওয়া উচিত।
আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার ক্ষেত্রে নজির হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাঁদের মতে, আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—রাজনৈতিক বক্তব্য আর সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, এবং সেই সীমারেখা বিচার করার সময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সব মিলিয়ে, একটি মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হওয়া আইনি লড়াই এখন বড় রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিয়েছে। সংবিধান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব—এই তিনের সমীকরণ আবারও সামনে এনে দিল শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ।
