মমতার ধরনা মঞ্চের সামনেই পার্শ্বশিক্ষকদের বিক্ষোভ! ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান, সরাল পুলিশ
মমতার ধরনা মঞ্চের সামনেই পার্শ্বশিক্ষকদের বিক্ষোভ! ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান, সরাল পুলিশ
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26


মমতার ধরনা মঞ্চের সামনেই পার্শ্বশিক্ষকদের বিক্ষোভ! ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান, সরাল পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চের সামনেই নিজেদের দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবিদাওয়া নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকরা। আজ মহানগরের রাজপথে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে যখন দলীয় কর্মসূচি চলছিল, ঠিক সেই সময়ই একদল পার্শ্বশিক্ষক ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে মঞ্চের একেবারে সামনে পৌঁছে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
হঠাৎই উত্তপ্ত ধরনা চত্বর
জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে যখন তৃণমূলের ধরনা কর্মসূচি চলছিল, তখন হঠাৎই একদল পার্শ্বশিক্ষক সাধারণের ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসেন। তাঁদের হাতে ছিল দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। "স্থায়ীকরণ চাই" ও "বেতন কাঠামো সংশোধন"-এর মতো একাধিক দাবি নিয়ে তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। তাঁদের এই অতর্কিত বিক্ষোভে কার্যত অস্বস্তিতে পড়তে হয় সেখানে উপস্থিত শাসকদলের নেতা-কর্মীদের।
মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও পুলিশের অ্যাকশন
ঘটনার আকস্মিকতায় সাময়িকভাবে হতভম্ব হয়ে গেলেও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত পরিস্থিতি লক্ষ্য করেন। সূত্রের খবর, মঞ্চের সামনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় তিনি পুলিশকে পরিস্থিতি সামাল দিতে বলেন। এরপরই কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী তৎক্ষণাৎ আন্দোলনকারীদের ঘিরে ফেলে এবং তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের বারবার সরে যেতে বলা হলেও, তাঁরা নিজেদের দাবিতে অনড় ছিলেন। শেষে পুলিশের সঙ্গে মৃদু ধস্তাধস্তির পর তাঁদের প্রিজন ভ্যানে তুলে এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে ধরনা মঞ্চের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য
আন্দোলনরত এক পার্শ্বশিক্ষক জানান, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছি। কিন্তু আমাদের সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। তাই আজ বাধ্য হয়েই মুখ্যমন্ত্রীর সামনে নিজেদের কষ্টের কথা তুলে ধরতে এসেছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা শোনার বদলে পুলিশ দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হলো।"
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সরকারি ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের এই ধরণের আন্দোলন শাসকদলের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। আজকের এই ঘটনা প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
