মণিপুরে ১,০০০-এর বেশি ঝর্ণার মানচিত্র প্রস্তুত; পুনরুজ্জীবনের জন্য ১৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ উৎস চিহ্নিত
মণিপুরে ১,০০০-এর বেশি ঝর্ণার মানচিত্র প্রস্তুত; পুনরুজ্জীবনের জন্য ১৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ উৎস চিহ্নিত
ট্রেন্ডিংদেশরাজনীতিপশ্চিমবঙ্গ


মণিপুরে ১,০০০-এর বেশি ঝর্ণার মানচিত্র প্রস্তুত; পুনরুজ্জীবনের জন্য ১৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ উৎস চিহ্নিত
জল সংরক্ষণ ও পরিবেশগত পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মণিপুরের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন অধিদপ্তর (DoECC) রাজ্যজুড়ে ১,০০০টিরও বেশি প্রাকৃতিক ঝর্ণার মানচিত্র প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে উখরুল ও নোনেই জেলায় অবস্থিত ১৭৩টি ঝর্ণাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনরুজ্জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শনিবার ইম্ফল পূর্ব জেলার পোরোমপাটে পরিবেশ ক্যালেন্ডার ২০২৬ প্রকাশ অনুষ্ঠানে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন দপ্তরের প্রধান সচিব অরুণ কুমার সিনহা এই তথ্য জানান।
পাহাড়ি অঞ্চলে দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সিনহা বলেন, বন উজাড় ও অবৈজ্ঞানিক ভূমি ব্যবহার পদ্ধতির কারণে বহু প্রাকৃতিক ঝর্ণা ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। তিনি স্প্রিংশেড ব্যবস্থাপনার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তিনি আরও জানান, পাহাড়ি এলাকায় জল নিরাপত্তার জন্য ঝর্ণাগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থানীয় জনগণ দৈনন্দিন প্রয়োজনের জন্য মূলত এই জল উৎসগুলির ওপরই নির্ভরশীল।
জলাভূমি মানচিত্রায়ণ ও পুনরুজ্জীবন উদ্যোগ
রাজ্যের নোডাল সংস্থা হিসেবে DoECC মণিপুর জুড়ে ৭১টি জলাভূমির সীমানা নির্ধারণ ও মানচিত্রায়ণ করেছে। এর মধ্যে তিনটি জলাভূমি ইতিমধ্যেই সরকারি ভাবে নোটিফাই করা হয়েছে এবং আরও চারটির পুনরুজ্জীবন কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানান সিনহা।
পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা একটি যৌথ দায়িত্ব, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
প্রধান সচিব আরও জানান, সারা দেশে স্প্রিংশেড ব্যবস্থাপনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ২,৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় মণিপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যেই একাধিক কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
পরিবেশ ক্যালেন্ডার ২০২৬: সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ
সিনহা জানান, পরিবেশ ক্যালেন্ডার ২০২৬ হল অধিদপ্তরের পরিবেশ সংক্রান্ত তথ্য ও সচেতনতা প্রসার কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে বিশ্ব, জাতীয় ও রাজ্য স্তরের বিভিন্ন পরিবেশ দিবস ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হবে।
এই ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—
বিশ্ব জলাভূমি দিবস (২ ফেব্রুয়ারি),
বিশ্ব জল দিবস (মার্চ),
বিশ্ব ধরিত্রী দিবস (এপ্রিল),
আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস (মে),
বিশ্ব পরিবেশ দিবস (জুন),
বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস (জুলাই),
বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আন্তর্জাতিক দিবস (আগস্ট),
বিশ্ব ওজোন দিবস (সেপ্টেম্বর)
এবং আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস (ডিসেম্বর)।
এই উদ্যোগ ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও মণিপুরের টেকসই পরিবেশ শাসনের প্রতি বাড়তে থাকা গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।
