"মসজিদ বানিয়ে মুসলিমদের মধ্যে ভেদাভেদের চেষ্টা", মমতার সামনেই সরব ইমাম; পাল্টা তোপ হুমায়ুনের
"মসজিদ বানিয়ে মুসলিমদের মধ্যে ভেদাভেদের চেষ্টা", মমতার সামনেই সরব ইমাম; পাল্টা তোপ হুমায়ুনের
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26


"মসজিদ বানিয়ে মুসলিমদের মধ্যে ভেদাভেদের চেষ্টা", মমতার সামনেই সরব ইমাম; পাল্টা তোপ হুমায়ুনের
কলকাতা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তপ্ত 'বাবরি মসজিদ' বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই এবার এই প্রকল্পের কড়া সমালোচনা করলেন কলকাতার এক বিশিষ্ট ইমাম। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বিতর্কিত 'বাবরি মসজিদ' আদলে মসজিদ তৈরির যে উদ্যোগ বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নিয়েছেন, তাকে সরাসরি "মুসলিমদের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরির চেষ্টা" বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
মমতার সামনেই ইমামের তোপ
সম্প্রতি কলকাতা পৌরসভা আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে ষোলোআনা মসজিদের ইমাম সরাসরি এই প্রকল্পের নিন্দা করেন। তিনি বলেন:
বিভাজনের রাজনীতি: তাঁর মতে, ধর্মের নামে এই ধরণের স্থাপত্য তৈরি করে আসলে মুসলিম সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইমামদের দূরত্ব: তিনি দাবি করেন যে, এই ধরণের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রকৃত ধার্মিক বা কোনো মসজিদের ইমাম যুক্ত নন।
নিন্দাপ্রস্তাব: তিনি স্পষ্ট জানান যে, বাঙালি মুসলিম সমাজ এই ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপকে সমর্থন করে না।
হুমায়ুনের পালটা আক্রমণ
ইমামের এই মন্তব্যের পর চুপ থাকেননি ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক তথা নবগঠিত 'জনতা উন্নয়ন পার্টি'-র প্রধান হুমায়ুন কবীর। তিনি পাল্টা তোপ দেগে বলেন:
"কিছু ইমাম আছেন যাঁরা সামান্য ইমামভাতা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারের পদলেহন করেন। আমার এই প্রকল্পের জন্য তাঁদের কোনো সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই।"
হুমায়ুন আরও দাবি করেন যে, সংবিধান অনুযায়ী নিজের জমিতে মসজিদ তৈরি এবং তার নামকরণ করা তাঁর মৌলিক অধিকার। তিনি জানিয়ে দেন, বিরোধীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই বেলডাঙার রেজিনগরে ৫০-৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ চলবে।
বিতর্কের নেপথ্যে
গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনেই মুর্শিদাবাদে এই মসজিদের শিলান্যাস করেছিলেন হুমায়ুন কবীর।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: এই ঘটনার পরেই তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল কংগ্রেস।
বিজেপির দাবি: বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনাকে "পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ" বানানোর চক্রান্ত হিসেবে দেখছেন।
সরকারের অবস্থান: তৃণমূলের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে হুমায়ুন আসলে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে চাইছেন এবং রাজ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটাতে চাইছেন।
