দল নেই, পদ নেই, কিন্তু সৌজন্য অটুট। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামাঙ্কিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সূচনায় বক্তা হিসেবে হাজির হলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ জহর সরকার।
দল নেই, পদ নেই, কিন্তু সৌজন্য অটুট। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামাঙ্কিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সূচনায় বক্তা হিসেবে হাজির হলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ জহর সরকার।
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26


সরকার নেই তাতে কী? সিপিএমের মঞ্চে জহর! বুদ্ধদেবের নামাঙ্কিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সূচনায় তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ
নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্য রাজনীতিতে যখন শাসক ও বিরোধী শিবিরের আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক, ঠিক তখনই এক সৌজন্যের অনন্য ছবি ধরা পড়ল বাম শিবিরের এক অনুষ্ঠানে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্মৃতিতে তৈরি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সূচনায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন আমলা-সাংসদ জহর সরকার। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে এই মেলবন্ধন এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
বুদ্ধবাবুর স্মরণে জহর সরকার:
এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামাঙ্কিত এক নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। বামপন্থীদের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল জহর সরকারকে। রাজ্য সরকারে আমলা হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়েই জহর সরকার বুদ্ধবাবুর সংস্কৃতিমনস্কতা এবং ব্যক্তিগত সততার প্রশংসা করেন।
তৃণমূল ছেড়েও সৌজন্যে অটুট:
সম্প্রতি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন জহর সরকার। তারপর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা ছিল। তবে এদিনের অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি প্রমাণ করল যে, শিল্পের কদর এবং ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কোনো রাজনৈতিক সীমানায় আটকে থাকে না।
সিপিএমের মঞ্চে তৃণমূলের প্রাক্তন মুখ:
সিপিএম নেতৃত্বও এই অনুষ্ঠানে জহর সরকারকে আমন্ত্রণ জানিয়ে এক বড় রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ব্যক্তিত্ব ছিল দলমতনির্বিশেষে সবার কাছে শ্রদ্ধার। তাই তাঁর নামাঙ্কিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সূচনায় একজন অভিজ্ঞ এবং মননশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবেই জহর সরকারকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে চর্চা:
তৃণমূলের প্রাক্তন আমলা-সাংসদ এবং বাম শিবিরের এই 'যুগলবন্দি' নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা। অনেকে একে 'রাজনৈতিক সৌজন্য' হিসেবে দেখলেও, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই সমীকরণকে অন্য চোখে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
