শোকাতুর রাজনৈতিক মহল: চিরবিদায় নিলেন রাজনীতির 'চাণক্য' মুকুল রায়

শোকাতুর রাজনৈতিক মহল: চিরবিদায় নিলেন রাজনীতির 'চাণক্য' মুকুল রায়

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26দেশ

2/24/20261 min read

শোকাতুর রাজনৈতিক মহল: চিরবিদায় নিলেন রাজনীতির 'চাণক্য' মুকুল রায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবসান হলো একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের। দীর্ঘ রোগভোগের পর না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রবীণ রাজনীতিক তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ মধ্যরাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তাঁর প্রয়াণে রাজ্য তথা দেশের রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাজনৈতিক জীবন ও 'চাণক্য' উপাধি

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুকুল রায় রাজনৈতিক মহলে ‘চাণক্য’ নামেই পরিচিত ছিলেন। ভোট কুশলতা, সাংগঠনিক মারপ্যাঁচ এবং নিখুঁত রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল।

  • শুরুয়াত: ছাত্র ও যুব কংগ্রেসের আন্দোলনের হাত ধরেই তাঁর উত্থান। এক সময় রাজ্যের যুবসমাজের কাছে তিনি আইকন হয়ে উঠেছিলেন।

  • সাফল্য: কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সর্বভারতীয় রাজনীতিতে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

  • দলবদল: ২০১৭ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দেন এবং দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলান। পরবর্তীতে পুনরায় তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন।

শিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবন

১৯৫৪ সালের ১৭ এপ্রিল উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচড়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষার প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল।

  • কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এসসি (B.Sc) পাশ করার পর, ২০০৬ সালে মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতকোত্তর (MA) ডিগ্রি অর্জন করেন।

শোকবার্তা

মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সতীর্থরা। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় শোকবার্তায় বলেন:

"জাতীয় কংগ্রেস থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস—আমরা দীর্ঘকাল একসাথে রাজনীতি করেছি। একজন দক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ওঁর মৃত্যু অত্যন্ত শোকাবহ। আমি ওঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।"

উপসংহার: বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং দীর্ঘ শারীরিক লড়াই শেষে তাঁর এই প্রস্থান বাংলার রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করল। দলমত নির্বিশেষে সমস্ত রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।

নারায়ণ রতন দত্ত/হাওড়া