এনসিইআরটি পাঠ্যবইয়ে বড় বদল! বিচারব্যবস্থায় 'দুর্নীতি' প্রসঙ্গ কি বাদ পড়ছে? কী জানাল শিক্ষা কাউন্সিল
এনসিইআরটি পাঠ্যবইয়ে বড় বদল! বিচারব্যবস্থায় 'দুর্নীতি' প্রসঙ্গ কি বাদ পড়ছে? কী জানাল শিক্ষা কাউন্সিল
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিদেশ


এনসিইআরটি পাঠ্যবইয়ে বড় বদল! বিচারব্যবস্থায় 'দুর্নীতি' প্রসঙ্গ কি বাদ পড়ছে? কী জানাল শিক্ষা কাউন্সিল
নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: স্কুলের পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থার ত্রুটি ও দুর্নীতির উল্লেখ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক দানা বাঁধতেই বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে এনসিইআরটি (NCERT)। অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ের নতুন সংস্করণে বিচারব্যবস্থার 'চ্যালেঞ্জ' হিসেবে দুর্নীতি ও মামলার পাহাড় জমিয়ে রাখার যে প্রসঙ্গ আনা হয়েছিল, তা নিয়ে শীর্ষ আদালত সরব হওয়ার পর এবার সুর বদলালো শিক্ষা কাউন্সিল।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
২০২৬ সালের শুরুতে অষ্টম শ্রেণির সংশোধিত সমাজবিজ্ঞান বইতে 'The Role of the Judiciary in Our Society' নামক অধ্যায়ে সরাসরি 'বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি' (Corruption in the Judiciary) শীর্ষক একটি অনুচ্ছেদ যোগ করা হয়েছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে সাধারণ মানুষ দুর্নীতির সম্মুখীন হন। একইসাথে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে জমে থাকা লক্ষ লক্ষ বকেয়া মামলার পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও অবমাননার প্রশ্ন:
এই পাঠ্যবই নিয়ে সরব হয় আইনজীবী মহলের একাংশ। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসতেই প্রধান বিচারপতি (CJI) কড়া পর্যবেক্ষণ দেন। অভিযোগ ওঠে যে, কোনো প্রমাণ ছাড়া স্কুলের পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থাকে ঢালাওভাবে 'দুর্নীতিগ্রস্ত' হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া বিচারব্যবস্থার অবমাননার (Contempt of Court) সামিল। এটি তরুণ প্রজন্মের মনে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এনসিইআরটি-র অবস্থান ও সংশোধনী:
বিতর্ক বাড়তে দেখে এনসিইআরটি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাঠ্যবইয়ের উদ্দেশ্য বিচারব্যবস্থাকে অপমান করা নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে পড়ুয়াদের সচেতন করা। তবে আইনি জটিলতা এবং আদালতের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে বিতর্কিত অংশগুলি পুনরায় পর্যালোচনা ও সংশোধন করা হবে।
সূত্র মারফত জানা গেছে:
'দুর্নীতি' শব্দটি সরিয়ে সেখানে বিচারবিভাগীয় সংস্কার ও পরিকাঠামোগত সমস্যার ওপর জোর দেওয়া হতে পারে।
আদালত অবমাননার আইন এবং বিচারবিভাগের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা (Accountability Mechanism) নিয়ে নতুন তথ্য যোগ করা হতে পারে।
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিদের বিভিন্ন ইতিবাচক উক্তি ও আইনি সংস্কারের পদক্ষেপগুলিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ভারসাম্য আনা হবে।
শিক্ষা মহলে প্রতিক্রিয়া:
শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, সিস্টেমের ত্রুটিগুলো পড়ুয়াদের জানানো দরকার, তবে তা যেন একপেশে বা অবমাননাকর না হয়। অন্য অংশ মনে করছে, পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক বা আইনি বিতর্ক এড়িয়ে সঠিক তথ্য পরিবেশন করাই হবে শ্রেয়।
