সেনা আধিকারিককে নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তি, তীব্র প্রতিক্রিয়া ইস্টার্ন কমান্ডের

সেনা আধিকারিককে নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তি, তীব্র প্রতিক্রিয়া ইস্টার্ন কমান্ডের

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিদেশ

দেশ

1/21/20261 min read

সেনা আধিকারিককে নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তি, তীব্র প্রতিক্রিয়া ইস্টার্ন কমান্ডের

কলকাতা: সেনা আধিকারিককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এক জন সেনা আধিকারিককে নিয়ে করা মন্তব্যে আপত্তি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মন্তব্যকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থানের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ড।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর মতো একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংবিধান-নিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদের নাম জড়িয়ে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিতর্ক সৃষ্টি করা অনুচিত। তাঁর দাবি, সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত, তাই তাদের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, “সেনাবাহিনী রাজনীতির ঊর্ধ্বে। কোনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে সেনা আধিকারিকদের টেনে আনা ঠিক নয়।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই প্রতিক্রিয়া জানায় ইস্টার্ন কমান্ড। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ভারতীয় সেনা সম্পূর্ণভাবে সংবিধানের অধীনে কাজ করে এবং কোনও রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত নয়। সেনা আধিকারিকরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করেন দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে। ইস্টার্ন কমান্ডের তরফে আরও বলা হয়, সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ও পেশাদারিত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি এবং এ বিষয়ে সকলের সংযত থাকা উচিত।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানকে সমর্থন করে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীকে সম্মান জানানো প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে আসল সমস্যাগুলি আড়াল করা হচ্ছে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনও মন্তব্য বা সিদ্ধান্তে সেই নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হলে তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।

সব মিলিয়ে, সেনা আধিকারিককে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আবারও মনে করিয়ে দিল—দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাইরে রাখাই গণতন্ত্রের স্বার্থে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।