নিহত পুলিশ সার্জেন্ট বাপি সেনের বাড়িতে অভিযান চালালো দিল্লি পুলিশ, তুলে নিয়ে গেলো তাঁর ছেলেকে
নিহত পুলিশ সার্জেন্ট বাপি সেনের বাড়িতে অভিযান চালালো দিল্লি পুলিশ, তুলে নিয়ে গেলো তাঁর ছেলেকে
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গ


নিহত পুলিশ সার্জেন্ট বাপি সেনের বাড়িতে অভিযান চালালো দিল্লি পুলিশ, তুলে নিয়ে গেলো তাঁর ছেলেকে
২০০২ সালে জানুয়ারি মাসে বেহালার পর্ণশ্রীর পুলিশ আবাসনের সার্জেন্ট বাপি সেনের বাড়িতে এতো পুলিশ দেখা গিয়েছিল। ২৪ বছর পর জানুয়ারিতেই ফের পুলিশ এলো সেই ঠিকানায়। শুধু পার্থক্য থেকে গেলো ঘটনাচক্রে। সেই সময় আইন রক্ষা করতে গিয়ে সহকর্মীদের হাতে নিহত হয়েছিলেন বাপি সেন। শনিবার সাইবার প্রতারণার অভিযোগে বাপির ছেলে শঙ্খার্ঘ্য সেনকে পাকরাও করে দিল্লি পুলিশ।
সূত্রের খবর, গতবছর ডিসেম্বর মাসে বিনিয়োগের নাম করে বেশকিছু টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দাখিল হয় দিল্লি পুলিশের কাছে। তদন্তে নেমে পুলিশ কলকাতার একটি অ্যাকাউন্ট নম্বরের খোঁজ পায়। পরে জানা যায় নম্বরটি বাপি সেনের ছেলে শঙ্খার্ঘ্য-র। সেই অভিযোগেই তাঁকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতি মেলায় পরে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার তাঁকে আলিপুর আদালতে হাজির করানো হলে আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। তবে বিচারকের নির্দেশ, দিল্লির আদালতে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে বাপি সেনের ছেলেকে।
প্রতি বছর বর্ষবরণের রাতে উৎসবে মেতে ওঠার আগে আজও বহু মানুষের মনে পড়ে পুলিশ সার্জেন্ট বাপি সেনের নাম। এক তরুণীর সম্মান বাঁচাতে গিয়ে সহকর্মীদের হাতে প্রাণ খুইয়েছিলেন তিনি। বাপি সেনের ছেলের সাইবার প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আটক করায় হতবাক এলাকার বাসিন্দারা। যুবককে আটক করে রাতেই তাঁকে নিয়ে আসা হয় পর্ণশ্রী থানায়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ।
কে এই বাপি সেন? ২০০২ সালে বর্ষবরণের রাতে কলকাতার ওয়েলিংটন এলাকার নির্মলচন্দ্র স্ট্রিটে বাইক আরোহী তরুণীর সম্মান বাঁচাতে গিয়ে প্রহৃত হয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট বাপি সেন। মদ্যপ অবস্থায় থাকা কলকাতা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্সের পাঁচ কনস্টেবল তাঁকে ট্রাম লাইনের উপরে ফেলে নির্মমভাবে মারধর করেছিল। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বাপি সেনকে প্রথমে মধ্য কলকাতার এক সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে একবালপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোমায় চলে যান। শেষ পর্যন্ত সাত দিনের লড়াই শেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন। তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুজয় চক্রবর্তীর নির্দেশে বৌবাজার থানায় খুনের মামলা দায়ের হয়েছিল। তদন্তে নেমেছিল কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখা। আদালতে পাঁচ পুলিশ কর্মী দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।
বাপি সেনের দুই ছেলে। শঙ্খার্ঘ্য ছোটো। তাঁর স্ত্রী সোমা সেনও কলকাতা পুলিশের কর্মী।
