কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় PAC মোতায়েন: হুমায়ুন কবিরের খরচ নিজেকেই বহনের নির্দেশ হাই কোর্টের

কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় PAC মোতায়েন: হুমায়ুন কবিরের খরচ নিজেকেই বহনের নির্দেশ হাই কোর্টের

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

1/20/20261 min read

কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় PAC মোতায়েন: হুমায়ুন কবিরের খরচ নিজেকেই বহনের নির্দেশ হাই কোর্টের

কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় PAC (Provincial Armed Constabulary) মোতায়েন সংক্রান্ত এক মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল হাই কোর্ট। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ—নিরাপত্তার প্রয়োজনে হুমায়ুন কবিরকে PAC মোতায়েন করতে হলে তার সম্পূর্ণ খরচ নিজেকেই বহন করতে হবে। রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল থেকে এই নিরাপত্তা বাবদ কোনও অর্থ ব্যয় করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন কবির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কার কথা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার শুনানিতে বিচারপতি জানান, কোনও ব্যক্তির নিরাপত্তা যদি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা বৃহত্তর জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকে, তবে সেই নিরাপত্তার ব্যয় সরকারি কোষাগার থেকে বহন করা যুক্তিযুক্ত নয়। এই নীতির ভিত্তিতেই আদালত খরচ বহনের দায় আবেদনকারীর উপরই আরোপ করেছে।

রায়ে আদালত আরও উল্লেখ করেছে, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য বাহিনী সীমিত সম্পদের মধ্যে কাজ করে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে তাই কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রয়োজন। আদালতের মতে, শুধুমাত্র সম্ভাব্য হুমকির কথা উল্লেখ করলেই সরকারি খরচে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়া যাবে—এমন কোনও বিধান নেই।

তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করেছে যে, যদি নিরাপত্তা সংস্থাগুলি হুমকির মাত্রা মূল্যায়ন করে PAC মোতায়েন প্রয়োজন বলে মনে করে, তাহলে প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই তা করা যেতে পারে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে বাহিনী মোতায়েন, থাকা-খাওয়া, যানবাহন ও অন্যান্য লজিস্টিক ব্যয়ের সম্পূর্ণ দায় হুমায়ুন কবিরকেই বহন করতে হবে।

এই নির্দেশকে ঘিরে প্রশাসনিক ও আইনি মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং বাহিনীর সীমিত সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে আদালতের এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।