বালোচদের কবজায় ১৭ পাক সেনা!

বালোচদের কবজায় ১৭ পাক সেনা!

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিঢাকাবিদেশদেশ

2/17/20261 min read

বালোচদের কবজায় ১৭ পাক সেনা! মুক্তির শর্ত দিয়ে ৭ দিনের চরম আল্টিমেটাম বিদ্রোহীদের

স্বাধীনতার দাবিতে রণক্ষেত্র বালোচিস্তান। এবার সরাসরি পাক সেনার ওপর প্রত্যাঘাত হানল বিদ্রোহী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)। সংগঠনের দাবি, ‘অপারেশন হেরোফ’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে তারা মোট ১৭ জন পাকিস্তানি সেনাকে বন্দি করেছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই বন্দি বিনিময়ের জন্য ইসলামাবাদকে ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বিদ্রোহীরা।

বন্দি ১৭, তবে ৭ জনের প্রাণ সংশয়?

বিএলএ-র মিডিয়া উইং ‘হাক্কাল’-এর তরফে জানানো হয়েছে, তারা মোট ১৭ জন জওয়ানকে আটক করেছিল। তবে এদের মধ্যে ১০ জন জাতিগতভাবে বালোচ হওয়ায় এবং স্থানীয় পুলিশের সাথে যুক্ত থাকায় তাঁদের ‘সতর্ক’ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাকি ৭ জন নিয়মিত পাক সেনার জওয়ান এখনও বিদ্রোহীদের কবজায়।

বিদ্রোহীদের ‘বালোচ জাতীয় আদালত’ ও বিচার

বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে:

  • বন্দি ৭ পাক সেনাকে বিদ্রোহীদের স্বঘোষিত ‘বালোচ জাতীয় আদালতে’ তোলা হয়েছিল।

  • তাঁদের বিরুদ্ধে বালোচ জনগণের ওপর গণহত্যা এবং সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • বিদ্রোহীদের দাবি, বিচারে জওয়ানরা অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে তাঁদের প্রাণের বিনিময়ে বন্দি মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

৭ দিনের চরমসীমা: কী শর্ত বিদ্রোহীদের?

বালোচ লিবারেশন আর্মি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে পাকিস্তান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্দি বিনিময়ের প্রস্তাব দিতে হবে। পাকিস্তানের জেলে বন্দি থাকা বালোচ যোদ্ধাদের মুক্তি দিলেই এই ৭ জন সেনাকে ছাড়া হবে। অন্যথায়, ৭ দিন পর তাঁদের ওপর ‘আদালতের সাজা’ (অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড) কার্যকর করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

অস্বস্তিতে ইসলামাবাদ ও পাক সেনা

সদ্য ক্ষমতায় আসা শাহবাজ শরিফ সরকার এবং পাক সেনার জন্য এটি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। একদিকে দেশের ভেতরে চরম অর্থনৈতিক সংকট, অন্যদিকে বালোচিস্তানে এই ধরনের নজিরবিহীন হামলা—পাকিস্তানকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্দি জওয়ানদের হাঁটু মুড়ে বসে থাকার ছবি ভাইরাল হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন পাক জওয়ানরা। এখনও পর্যন্ত এই ইস্যুতে পাকিস্তান সরকার বা সেনা কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।