ইসলামাবাদে শিয়া মসজিদে রক্তাক্ত আত্মঘাতী হামলা, নিহত অন্তত ৩১ — নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিয়ে বড় প্রশ্ন
ইসলামাবাদে শিয়া মসজিদে রক্তাক্ত আত্মঘাতী হামলা, নিহত অন্তত ৩১ — নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিয়ে বড় প্রশ্ন
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গবিদেশদেশঢাকারাজনীতি


ইসলামাবাদে শিয়া মসজিদে রক্তাক্ত আত্মঘাতী হামলা, নিহত অন্তত ৩১ — নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিয়ে বড় প্রশ্ন
জুম্মার নামাজের সময় বিস্ফোরণ; শতাধিক আহত, পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জুম্মার নামাজ চলাকালীন শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় ফের সামনে এল পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের গভীর সংকট। রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি শিয়া ইমামবারগাহে এই হামলা ঘটে, যখন নামাজে ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারী মসজিদের প্রবেশদ্বারের কাছে পৌঁছতেই নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তেই ঘটে বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের ভেতর ও বাইরে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসস্তূপ, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় বহু মানুষকে।
এই হামলা শুধুমাত্র একটি সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ নয়, বরং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রাজধানী শহর, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কঠোর বলে দাবি করা হয়, সেখানেই কীভাবে একজন আত্মঘাতী হামলাকারী এত সহজে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে গেল—এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঘুরপাক খাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি সংগঠনগুলির টার্গেট। অতীতেও একাধিকবার মসজিদ, ইমামবারগাহ এবং ধর্মীয় সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বারবার একই ধরনের হামলা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন—এমন অভিযোগও উঠছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত, পাকিস্তানে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে নীতিগত দ্বিধা ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সন্ত্রাসবাদ দমনের দাবির সঙ্গে বাস্তবের ব্যবধান ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
হামলার পর ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, হাসপাতালগুলিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব হামলার তীব্র নিন্দা করলেও, শুধুমাত্র নিন্দা নয়—বাস্তবিক পদক্ষেপ কোথায়, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে আরও জোরালোভাবে।
ইসলামাবাদের এই বিস্ফোরণ আবারও প্রমাণ করল, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুন এখনও পাকিস্তানের ভিতরে নিভে যায়নি; বরং সুযোগ পেলেই তা আরও ভয়াবহ রূপে সামনে আসছে।
