পিঠে পড়তেই নামল পাকিস্তান! এশিয়ার সামরিক শক্তির নতুন তালিকা যে বাস্তবতার আয়না দেখাল
পিঠে পড়তেই নামল পাকিস্তান! এশিয়ার সামরিক শক্তির নতুন তালিকা যে বাস্তবতার আয়না দেখাল
ট্রেন্ডিংরাজনীতিদেশবিদেশ


পিঠে পড়তেই নামল পাকিস্তান! এশিয়ার সামরিক শক্তির নতুন তালিকা যে বাস্তবতার আয়না দেখাল
এশিয়ার সামরিক শক্তির নতুন তালিকা প্রকাশ হতেই স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তিনটি নাম—চিন, ভারত এবং পাকিস্তান। এর সঙ্গে তুলনামূলক আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশও। কিন্তু এই তালিকা শুধু সংখ্যার খেলা নয়, এটি আসলে ভূরাজনীতি, অর্থনীতি এবং কৌশলগত প্রস্তুতির একটি বাস্তব প্রতিফলন।
চিন বহুদিন ধরেই এশিয়ার সামরিক শক্তির শীর্ষে অবস্থান করছে। বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট, দ্রুত প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ এবং সমুদ্র থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত সামরিক কৌশল—এই তিনের জোরেই বেইজিং আজ এশিয়ার শক্তির সমীকরণে নির্ধারক ভূমিকা নিচ্ছে। দক্ষিণ চিন সাগর থেকে তাইওয়ান প্রণালী—প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিন তার উপস্থিতি দৃশ্যমান করে তুলেছে।
ভারত এই তালিকায় শীর্ষ সারিতেই রয়েছে, এবং তার কারণও স্পষ্ট। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সেনাবাহিনী, দ্রুত আধুনিকীকরণ, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে জোর এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলে কৌশলগত উপস্থিতি—এই সব মিলিয়েই ভারত আজ একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে বাস্তবতা হল, চিনের সঙ্গে ব্যবধান এখনও পুরোপুরি কমেনি। সীমান্তে উত্তেজনা এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা ভারতকে আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সামরিক শক্তির সূচকে ভারতের পিছনে থাকলেও ইসলামাবাদ বরাবরই কৌশলগত ভারসাম্যের রাজনীতি করে এসেছে। সীমিত সম্পদ নিয়েও তারা পারমাণবিক প্রতিরোধ এবং নির্দিষ্ট সামরিক সক্ষমতার ওপর জোর দিয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা যে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরক্ষা শক্তিকেও প্রভাবিত করে, তা আজ স্পষ্ট।
বাংলাদেশের অবস্থানও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। তুলনামূলকভাবে ছোট অর্থনীতি হলেও গত এক দশকে সামরিক আধুনিকীকরণ, নৌ ও বিমান শক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সক্রিয় ভূমিকা—ঢাকাকে একটি ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে। যদিও বৃহৎ শক্তির সঙ্গে তুলনায় ব্যবধান এখনও অনেকটাই।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল—এই তালিকার রাজনৈতিক তাৎপর্য কী? বাস্তবতা হল, সামরিক শক্তি এখন আর শুধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নয়; এটি কূটনীতি, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক প্রভাবেরও হাতিয়ার। যে দেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী, প্রযুক্তিতে এগিয়ে এবং কৌশলগতভাবে সুসংগঠিত—তার সামরিক শক্তিও স্বাভাবিকভাবেই প্রভাবশালী হয়।
এশিয়ার নতুন বাস্তবতা তাই স্পষ্ট: শক্তির প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, জোটের রাজনীতি বদলাচ্ছে, আর প্রতিটি দেশ নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে মরিয়া। তালিকা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়—এটি ভবিষ্যতের ভূরাজনীতির দিকনির্দেশও বটে।
