৫০ হাজার টাকার 'ছেঁড়া কুর্তি' থেকে শ্যুটআউট! পিলখানা প্রোমোটার খুনের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
৫০ হাজার টাকার 'ছেঁড়া কুর্তি' থেকে শ্যুটআউট! পিলখানা প্রোমোটার খুনের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


৫০ হাজার টাকার 'ছেঁড়া কুর্তি' থেকে শ্যুটআউট! পিলখানা প্রোমোটার খুনের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
হাওড়া, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার পিলখানায় তরুণ প্রোমোটার সফিক খান (২৭) হত্যাকাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ। এই শ্যুটআউটের নেপথ্যে কোনো বড় প্রোমোটিং সিন্ডিকেট বা রাজনৈতিক শত্রুতা নয়, বরং দায়ী একটি ৫০ হাজার টাকার কুর্তি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে 'গ্যাংস অফ পিলখানা'-র দুই গোষ্ঠীর মধ্যেকার এক অদ্ভুত বিবাদের কাহিনী।
অশান্তির সূত্রপাত: একটি অনলাইন অর্ডার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার শেকড় রয়েছে গত কয়েক মাস আগের একটি ব্যবসায়িক লেনদেনে।
অনলাইন কেনাকাটা: ভিনরাজ্যের এক পোশাক ব্যবসায়ী হাওড়ার ফোরশোর রোডের বাসিন্দা পারভেজ নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে অনলাইনে ৫০ হাজার টাকার কুর্তি অর্ডার করেছিলেন।
ছেঁড়া কুর্তির অভিযোগ: অভিযোগ, পারভেজ ওই ব্যবসায়ীকে মানহীন বা 'ছেঁড়া' কুর্তি সরবরাহ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই গোলমালের সূত্রপাত।
গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব: এই কুর্তি বিতর্ক মেটাতে হস্তক্ষেপ করেন এলাকার দুই প্রভাবশালী মুখ—একদিকে নিহিত প্রোমোটার সফিক খান এবং অন্যদিকে মূল অভিযুক্ত হারুন খান।
খুনের দিন কী ঘটেছিল?
বুধবার ভোরে পিলখানা এলাকায় যখন সফিক খান দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন, ঠিক তখনই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় দুই আততায়ী পায়ে হেঁটে তাঁর কাছে আসে।
পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ: খুব কাছ থেকে সফিকের মাথা ও বুক লক্ষ্য করে ৪ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ: হাড়হিম করা সেই ভিডিওতে দেখা যায়, গুলি চালানোর পর দুষ্কৃতীরা ভিড়ের মধ্যেই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
তদন্তের অগ্রগতি ও গ্রেফতারি
ঘটনার পর এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জনতা অভিযুক্তদের ক্লাবে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং স্থানীয় বিধায়ককেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। বর্তমানে তদন্তের পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
বর্তমান অবস্থাবিবরণগ্রেফতারমহম্মদ বিলাল, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না এবং দিলদার হোসেন।পলাতকমূল দুই অভিযুক্ত হারুন খান এবং রোহিত।অন্যান্য গ্রেফতারিসংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত সাংবাদিকের ঘটনায় যুক্ত আরও ৬ জন।
হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া জানিয়েছেন, "আর্থিক লেনদেন এবং একটি বিশেষ ব্যবসায়িক বিবাদকে কেন্দ্র করেই এই খুন। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল অভিযুক্তদের লোকেশন জানার চেষ্টা চলছে।"
