PM CARES নিয়ে সংসদে প্রশ্নই নয়! প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের বার্তায় তীব্র রাজনৈতিক ঝড়
নয়াদিল্লি: দেশের মানুষের অনুদানে গড়া PM CARES তহবিল—কিন্তু সেই তহবিল নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলা যাবে না। লোকসভাকে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এই বার্তা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এটি শুধু তথ্য গোপন নয়, সংসদের অধিকারকেই কার্যত খর্ব করার সামিল।
ঘটনার সূত্রপাত এক সাংসদের প্রশ্ন ঘিরে। PM CARES তহবিলের অর্থের ব্যবহার, অডিট ও স্বচ্ছতা নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু জবাবে জানানো হয়েছে, এই তহবিল সরকারি নয় এবং এটি ‘পাবলিক অথরিটি’ হিসেবে চিহ্নিত নয়, ফলে সংসদে এ নিয়ে প্রশ্নের বাধ্যবাধকতা নেই।
বিরোধীদের বক্তব্য, এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। দেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী যদি কোনও তহবিলের ট্রাস্টি হন, তবে সেটিকে কীভাবে সম্পূর্ণ বেসরকারি বলা যায়? তাদের অভিযোগ, সরকারি ক্ষমতার মর্যাদা ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে, অথচ জবাবদিহির সময় সেটিকে বেসরকারি বলা হচ্ছে—এ এক ‘দ্বিচারিতা’র উদাহরণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিষয়টি শুধু একটি তহবিলের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংসদীয় গণতন্ত্রের মৌলিক প্রশ্ন। সংসদ যদি সরকারের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই না পারে, তাহলে জবাবদিহির কাঠামো কোথায় দাঁড়াবে? এই প্রশ্নই এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রের সমর্থকদের দাবি, PM CARES একটি স্বতন্ত্র ট্রাস্ট এবং আইনি কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, দুর্যোগের সময় দ্রুত অর্থ সংগ্রহ ও খরচের সুবিধার জন্যই এই তহবিল তৈরি করা হয়েছিল, এবং সেই লক্ষ্যেই এটি কাজ করছে।
তবে সমালোচকদের পাল্টা যুক্তি, স্বচ্ছতা ছাড়া দ্রুততার যুক্তি দীর্ঘদিন টিকতে পারে না। করোনা মহামারির সময় বিপুল অর্থ সংগ্রহের পরও তহবিলের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ না হওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, সংসদ দেশের সর্বোচ্চ জবাবদিহির মঞ্চ। সেই মঞ্চে যদি কোনও তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তোলার পথ বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা ভবিষ্যতে আরও বড় নজির তৈরি করতে পারে। আর সেটাই গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।