ইডি হানায় মুখ্যমন্ত্রীর রণহুংকার, উত্তুরে হাওয়াতেও ফুটছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা

ইডি হানায় মুখ্যমন্ত্রীর রণহুংকার, উত্তুরে হাওয়াতেও ফুটছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

1/11/20261 min read

ইডি হানায় মুখ্যমন্ত্রীর রণহুংকার, উত্তুরে হাওয়াতেও ফুটছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা

আইপ্যাক দফতরে হানা দেওয়াটা কেন্দ্রের উল্টো চাল হয়ে গেলো না তো? এরকমই প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। কারণ এর ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বস্তরের নেতা কর্মীরা গুটিয়ে যাওয়ার বদলে অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সরব হয়েছেন এর প্রতিবাদে। তিনি জানিয়েছেন, দলের প্রার্থীতালিকা, গুরুত্বপূর্ণ নথি নিতে এসেছিল ইডি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও একহাত নেন তিনি। রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে দেয় তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রীও এক কর্মসূচি থেকে বলেন, "আমাকে আঘাত করলে আমার পুনর্জীবন পায়।" দিল্লিতে অমিত শাহের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে গ্রেফতার হন তৃণমূল সাংসদেরা। জেলায় জেলায় রাস্তায় নেমে পড়েন তৃণমূল নেতৃত্ব। হাওড়াতেও জোরদার প্রতিবাদ হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, "বিজেপি বাংলা দখল করার স্বপ্ন নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করছে। প্রথমে এসআইআর চালু করে বাংলার প্রকৃত ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া। এরপর আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে বিনা কারণে। নক্কারজনক। এর প্রতিবাদে কর্মসূচি চলছে। তারা জীবনে আমাদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবে না। সেই কারণে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু আমরাও চুপ করে বসে থাকবো না।"

নির্বাচন এলেই বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে থাকে। এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযানে চালিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মনোবল ভেঙে ফেলতে চায়। ভোটের আগে এটা একটা মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। অনেকসময় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নেতৃত্বকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সেই ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচারে ঝড় তোলা হয়৷ এইরাজ্যেও একই ফর্মুলা কাজে লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে দল।

তবে বিজেপির এই কৌশল রাজ্যে ধাক্কা খেয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ একদিকে ইডি-র অভিযানের ফলে তৃণমূল আরো ঐক্যবদ্ধ ভাবে অনেক আগেই মাঠে নেমে পড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই অস্ত্রে শান দিয়ে প্রচারও শুরু করে ফেলেছে রাজ্যজুড়ে। যা ভোটের আগে তৃণমূলকে অনেকটাই ফায়দা দেবে বলেই মনে করছে রাজনীতির কারবারিরা