রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ ও আজীবন নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞার দাবি: লোকসভায় তোলপাড়

রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ ও আজীবন নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞার দাবি: লোকসভায় তোলপাড়

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গভোট 26দেশ

2/15/20261 min read

রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ ও আজীবন নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞার দাবি: লোকসভায় তোলপাড়

নয়াদিল্লি: লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সদস্যপদ বাতিল এবং তাঁকে আজীবন নির্বাচনে লড়ার অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি তুলে সংসদ উত্তাল করলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই মর্মে একটি 'সাবস্ট্যান্টিভ মোশন' (Substantive Motion) বা বিশেষ প্রস্তাবের নোটিশ জমা দিয়েছেন তিনি।

নিশিকান্ত দুবের মূল অভিযোগসমূহ:

বিজেপি সাংসদের দাবি, রাহুল গান্ধী ক্রমাগত সংসদীয় রীতিনীতি লঙ্ঘন করছেন এবং বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। নোটিশে তিনি উল্লেখ করেছেন:

  • বিদেশি যোগসাজশ: রাহুল গান্ধী সোরোস ফাউন্ডেশন, ফোর্ড ফাউন্ডেশন এবং USAID-এর মতো বিদেশি সংস্থাগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন।

  • দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র: থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো দেশ ভ্রমণের সময় তিনি ভারতবিরোধী শক্তির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে দুবের অভিযোগ।

  • বিভ্রান্তিকর তথ্য: সংসদে বাজেট আলোচনার সময় রাহুল গান্ধী প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে যে তথ্য দিয়েছেন, তা ভিত্তিহীন এবং দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর।

কেন 'আজীবন' নিষেধাজ্ঞার দাবি?

নিশিকান্ত দুবে জানিয়েছেন, এটি কেবল সাধারণ 'স্বাধিকার ভঙ্গের' নোটিশ নয়। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধী যেভাবে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং সংসদীয় কাঠামোর অবমাননা করছেন, তাতে তাঁর সংসদে থাকার অধিকার নেই। তাই তাঁকে সংসদ থেকে আজীবন বহিষ্কার এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক।

কংগ্রেসের পাল্টা প্রতিক্রিয়া:

এই পদক্ষেপকে বিজেপির 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' বলে বর্ণনা করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস সাংসদ রেণুকা চৌধুরী ও কেসি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, সরকার যখন বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না, তখন নজর ঘোরাতে এই ধরনের ভিত্তিহীন নোটিশ ব্যবহার করা হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও একে গুরুত্ব দিতে নারাজ।

দ্রষ্টব্য: সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকার যদি এই নোটিশটি গ্রহণ করেন, তবেই এটি নিয়ে সংসদে আলোচনা বা ভোটাভুটি হতে পারে। এর আগে ২০২৩ সালেও মানহানির মামলায় রাহুল গান্ধীর সদস্যপদ গিয়েছিল, যা পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ফিরে পান তিনি।