জাজপুর রেল দুর্ঘটনা—নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন, চাপ বাড়ছে রেলের ওপর; আহতদের বাড়ি ফেরাতে তৎপরতা খড়গপুর জিআরপি-র
জাজপুর রেল দুর্ঘটনা—নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন, চাপ বাড়ছে রেলের ওপর; আহতদের বাড়ি ফেরাতে তৎপরতা খড়গপুর জিআরপি-র
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গ


জাজপুর রেল দুর্ঘটনা—নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন, চাপ বাড়ছে রেলের ওপর; আহতদের বাড়ি ফেরাতে তৎপরতা খড়গপুর জিআরপি-র
জাজপুর লাইনে এনজেপি-গামী এক্সপ্রেস ট্রেনের দুর্ঘটনা আবারও দেশের রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলে দিল। একের পর এক দুর্ঘটনার পরও কেন বাস্তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি হচ্ছে না, তা নিয়ে সরব বিভিন্ন মহল। এই দুর্ঘটনায় বহু যাত্রী আহত হওয়ার পর প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেলেও, সমালোচকদের বক্তব্য—“দুর্ঘটনার পরে সক্রিয়তা, কিন্তু দুর্ঘটনা ঠেকাতে আগাম ব্যবস্থা কোথায়?”
দুর্ঘটনার পর আহত যাত্রীদের উদ্ধারে নেমেছে রেল ও খড়গপুর জিআরপি। চিকিৎসার পর ধাপে ধাপে তাদের বাড়ি ফেরানোর কাজ শুরু হয়েছে। ট্রেন, বাস ও অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই তৎপরতা যদি আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দেখা যেত, তবে কি এত মানুষকে বিপদের মুখে পড়তে হত?
প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর প্রথম দিকে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে দেরি এবং তথ্যের অভাবে যাত্রী ও তাদের পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় পড়েন। যদিও রেল কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে সরকারি বক্তব্যের ফারাক নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ ইতিমধ্যেই সরব হয়ে বলছে, বড় বড় প্রকল্পের প্রচার যতটা জোর দিয়ে করা হয়, যাত্রী নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয় ততটা গুরুত্ব পায় না। পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ, সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নজরদারি—এই সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিনের ঘাটতির অভিযোগ নতুন নয়। তবু কেন বারবার একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে, তার জবাব এখনও স্পষ্ট নয়।
রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ হতে সময় লাগে, আর তার মধ্যেই জনমনে ক্ষোভ ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়। ফলে স্থায়ী সমাধান আর বাস্তবায়নের প্রশ্নটাই থেকে যায় অনিশ্চিত।
আহত যাত্রীদের বাড়ি ফেরানোর কাজ এখন প্রশাসনের অগ্রাধিকার হলেও, এই দুর্ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—দেশের রেল ব্যবস্থায় নিরাপত্তা এখনও বড়সড় চ্যালেঞ্জ। প্রশ্ন একটাই, আর কত দুর্ঘটনার পর বাস্তবিক পরিবর্তন দেখা যাবে?
