নতুন বন্দে ভারত নিয়ে প্রচার তুঙ্গে, আর কয়েক দিনের মধ্যেই বন্ধ হচ্ছে ২টি ট্রেন! রেলের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন

নতুন বন্দে ভারত নিয়ে প্রচার তুঙ্গে, আর কয়েক দিনের মধ্যেই বন্ধ হচ্ছে ২টি ট্রেন! রেলের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26দেশ

2/12/20261 min read

নতুন বন্দে ভারত নিয়ে প্রচার তুঙ্গে, আর কয়েক দিনের মধ্যেই বন্ধ হচ্ছে ২টি ট্রেন! রেলের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন

একদিকে নতুন বন্দে ভারত চালু, স্লিপার সংস্করণ আনার জোর প্রচার—অন্যদিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে উঠছে তীব্র প্রশ্ন। রেল মন্ত্রক আধুনিকতার বার্তা তুলে ধরলেও বাস্তবে যাত্রীসংখ্যা, রুট পরিকল্পনা এবং ব্যয়ের হিসাব নিয়ে চাপ বাড়ছে বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

রেল সূত্রের দাবি, যাত্রীচাপ প্রত্যাশার তুলনায় কম এবং অপারেশনাল পুনর্বিন্যাসের কারণেই এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু সমালোচকদের বক্তব্য, নতুন প্রকল্পের প্রচারে যতটা জোর দেওয়া হচ্ছে, পরিষেবা চালু হওয়ার পর তার বাস্তব মূল্যায়ন কি সঠিকভাবে করা হচ্ছে? কয়েক মাস বা বছরের মধ্যেই যদি ট্রেন বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে পরিকল্পনার ঘাটতি নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বন্দে ভারতকে “প্রেস্টিজ প্রকল্প” হিসেবে তুলে ধরা হলেও অনেক রুটের বাস্তব চাহিদা বা পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি যথেষ্ট খতিয়ে দেখা হয় না। ফলে উদ্বোধনের জৌলুস থাকলেও পরে পরিষেবা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

রেল বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, উচ্চগতির আধুনিক ট্রেন চালানো শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়, বরং অর্থনীতি, যাত্রীচাহিদা এবং রুট পরিকল্পনারও বিষয়। যেসব রুটে ভাড়া তুলনামূলক বেশি এবং বিকল্প ট্রেন সহজলভ্য, সেখানে বন্দে ভারতের যাত্রীসংখ্যা কম থাকাই স্বাভাবিক। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা প্রয়োজন ছিল বলেই মত তাঁদের।

যাত্রী সংগঠনগুলির অভিযোগ আরও সরাসরি। তাঁদের দাবি, হঠাৎ পরিষেবা বন্ধ হলে সাধারণ যাত্রীদেরই সমস্যায় পড়তে হয়, অথচ সিদ্ধান্তের কারণ বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় না।

রেলের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, পরিষেবা বন্ধ বা রুট পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেন অন্য রুটে চালানো হতে পারে।

বিশ্লেষণ:
বন্দে ভারত এখন শুধু একটি ট্রেন নয়, সরকারের উন্নয়ন-ইমেজেরও প্রতীক। কিন্তু সেই প্রকল্প ঘিরেই যদি বারবার রুট বদল বা পরিষেবা বন্ধের ঘটনা সামনে আসে, তবে প্রশ্ন উঠবেই—পরিকল্পনা আগে, না প্রচার আগে? এই দ্বন্দ্বই এখন রেল নীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।