রাজ্যপালের কলমে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে বড় রদবদল,

রাজ্যপালের কলমে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে বড় রদবদল,

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

2/7/20261 min read

রাজ্যপালের কলমে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে বড় রদবদল, নিয়োগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর

নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ঘোষণায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাড়ল বিতর্ক; স্বচ্ছতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ফের প্রশ্ন বিরোধীদের

পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে নতুন চেয়ারম্যান ও একাধিক সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের অনুমোদনে এই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পরই রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে।

রাজভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষমতা রাজ্যপালের হাতে ন্যস্ত, সেই সাংবিধানিক ক্ষমতাবলেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। তবে ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নিয়োগের প্রক্রিয়া, সময় এবং তার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে।

বিরোধী মহলের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি ছিল। তাঁদের দাবি, শুধু নিয়োগ করলেই হবে না, নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়েছে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

অন্যদিকে শাসক শিবিরের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছিল এবং বহু নিয়োগ প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক নয়, এর স্পষ্ট রাজনৈতিক অভিঘাতও রয়েছে। রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের সম্পর্ক অতীতে একাধিক ইস্যুতে সংঘাতের মুখে পড়েছে। ফলে কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ব্যাখ্যার জন্ম দিচ্ছে।

চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের বক্তব্য, তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দ্রুত এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া। বছরের পর বছর পরীক্ষা, ফলপ্রকাশ এবং নিয়োগে দেরি হওয়ায় অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। নতুন নেতৃত্ব সেই জট কতটা কাটাতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নিয়োগের পর কমিশনের কাজের গতি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক চাপ—এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। সিদ্ধান্ত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই যে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে, তা সহজে থামার লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।