শ্রমিক দিবসে অভিনব প্রতিবাদ: 'শ্রমের অধিকার' ও 'স্বীকৃতি'র দাবিতে রঙ-তুলি হাতে সোনাগাছির যৌনকর্মীরা

শ্রমিক দিবসে অভিনব প্রতিবাদ: 'শ্রমের অধিকার' ও 'স্বীকৃতি'র দাবিতে রঙ-তুলি হাতে সোনাগাছির যৌনকর্মীরা

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গ

5/3/20261 min read

শ্রমিক দিবসে অভিনব প্রতিবাদ: 'শ্রমের অধিকার' ও 'স্বীকৃতি'র দাবিতে রঙ-তুলি হাতে সোনাগাছির যৌনকর্মীরা

কলকাতা: পহেলা মে, বিশ্বজুড়ে যখন শ্রমিকের অধিকার রক্ষার দিন পালিত হচ্ছে, তখন এক অনন্য প্রতিবাদের সাক্ষী থাকল কলকাতার সোনাগাছি। গতানুগতিক স্লোগান বা মিছিলে না গিয়ে, এবার রঙ আর তুলির আঁচড়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরলেন এশিয়াক খ্যাত এই যৌনপল্লীর কর্মীরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি— যৌনপেশাকে শ্রমের মর্যাদা দিতে হবে এবং একজন সাধারণ কর্মীর মতো সমস্ত সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

রাস্তাই যখন ক্যানভাস

প্রতি বছরের মতো এবারও মে দিবস উপলক্ষে সোনাগাছির রাস্তায় আলপনা ও বিশেষ অঙ্কন শৈলীর মাধ্যমে এক অভিনব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যৌনকর্মীদের সন্তানদের সংগঠন ‘আমরা পদাতিক’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। রাস্তার পিচের ওপর রঙ-তুলি দিয়ে তাঁরা ফুটিয়ে তোলেন তাঁদের জীবনের সংগ্রাম, বঞ্চনা এবং অধিকারের ভাষা। পথচলতি সাধারণ মানুষ থমকে দাঁড়িয়ে দেখেন এই নীরব অথচ শক্তিশালী প্রতিবাদ।

দীর্ঘদিনের লড়াই ও স্বীকৃতির দাবি

যৌনকর্মীদের শ্রমের অধিকার রক্ষার এই লড়াই দীর্ঘদিনের। এর আগে দিল্লিতে জাতীয় স্তরে দরবার করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে বারবার দাবি জানানো হয়েছে:

  • যৌনপেশাকে ‘শ্রম’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান।

  • একজন সাধারণ কর্মীর মতো সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা।

  • যৌনকর্মীদের সন্তানদের জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ ও মর্যাদা।

‘আমরা পদাতিক’ সংগঠনের সদস্যরা জানান, সমাজের মূল স্রোতে মিশে যাওয়ার জন্য এবং যথাযথ সামাজিক স্বীকৃতির দাবিতে তাঁরা বারবার সরব হয়েছেন। এবার শিল্পের মাধ্যমে সেই দাবিকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

পাশে দাঁড়িয়েছে বিশিষ্ট মহল

যৌনকর্মীদের এই শিল্পভিত্তিক প্রতিবাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। এদিন তাঁদের এই লড়াইকে সম্মান জানিয়ে এগিয়ে আসে ‘সিডস্ ফাউন্ডেশন’। সংস্থার কর্ণধার অমৃতা সিং এই অঙ্কন শিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদের স্বীকৃতি স্বরূপ ৫০ জন যৌনকর্মী দিদির হাতে বিশেষ উপহার তুলে দেন।

"পহেলা মে মানেই শ্রমিকের অধিকারের দিন। আমাদের দিদিদের এই লড়াইকে আমরা সম্মান জানাই। শিল্পের মাধ্যমে তাঁরা যেভাবে প্রতিবাদের ভাষা ফুটিয়ে তুলেছেন, তা অনন্য," — অমৃতা সিং (কর্ণধার, সিডস্ ফাউন্ডেশন)।

মে দিবসের এই অনুষ্ঠান শুধু একটি কর্মসূচি হয়ে থাকেনি, বরং তা হয়ে উঠেছে প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ের এক শক্তিশালী মঞ্চ।

নারায়ণ রতন দত্ত/হাওড়া