২৪ ঘণ্টায় ১৩ বার ভূমিকম্প, সিকিম কাঁপতেই আতঙ্কে দার্জিলিং-উত্তরবঙ্গ; প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
২৪ ঘণ্টায় ১৩ বার ভূমিকম্প, সিকিম কাঁপতেই আতঙ্কে দার্জিলিং-উত্তরবঙ্গ; প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গদেশ


২৪ ঘণ্টায় ১৩ বার ভূমিকম্প, সিকিম কাঁপতেই আতঙ্কে দার্জিলিং-উত্তরবঙ্গ; প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৩ বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে সিকিম। তার প্রভাব পড়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বারবার কম্পনে ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠায় আতঙ্কে বহু মানুষ রাত কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নীচে। কিন্তু এই আতঙ্কের মধ্যেই বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—ভূমিকম্পপ্রবণ এই পাহাড়ি অঞ্চলে বাস্তবিক প্রস্তুতি কতটা রয়েছে?
ভূকম্পন বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন, পূর্ব হিমালয় অঞ্চল অত্যন্ত সংবেদনশীল। বড় মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। তবু বাস্তবে সেই সতর্কবার্তা কতটা গুরুত্ব পেয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপর্যয় মোকাবিলার মহড়া বা সচেতনতা কর্মসূচি কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তার প্রভাব খুবই সীমিত।
একাধিক কম্পনের পর প্রশাসনের তরফে নজরদারির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও বড় আকারে মেলেনি এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার পর নজরদারি বাড়ানোই কি একমাত্র কাজ? আগাম প্রস্তুতি ও পরিকাঠামো মজবুত করার ক্ষেত্রে কেন বারবার শিথিলতা দেখা যায়?
পাহাড়ি এলাকায় বহু পুরনো বাড়ি, হোটেল এবং বাজার এলাকায় ঘনবসতি—যেগুলির বড় অংশই ভূমিকম্প সহনশীল নয় বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবু নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি বা পুরনো পরিকাঠামোর সংস্কারে তেমন দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। পর্যটনের চাপ বাড়লেও নিরাপত্তার প্রশ্ন বারবার উপেক্ষিত হয়েছে বলেই অভিযোগ।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় বড় পরিকল্পনার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব কম। পাহাড়ে রাস্তা ধস, ভূমিধস, ভূমিকম্প—প্রতিবারই একই ছবি সামনে আসে: আতঙ্ক, অস্থায়ী তৎপরতা, তারপর ধীরে ধীরে সব ভুলে যাওয়া। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
২৪ ঘণ্টায় ১৩ বার কম্পনের ঘটনা তাই শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, এটি একটি কঠোর সতর্কবার্তা। বড় বিপর্যয় না ঘটায় আপাত স্বস্তি মিললেও প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে—যদি আরও বড় কম্পন হয়, তখন কি প্রস্তুত পাহাড়? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি, আর সেই অনিশ্চয়তাই আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গ জুড়ে।
