সুপ্রিম কোর্টের শুনানির ২৪ ঘণ্টা আগে বড় সিদ্ধান্ত, ৮০০০ অফিসার দিতে প্রস্তুত নবান্ন—রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা
সুপ্রিম কোর্টের শুনানির ২৪ ঘণ্টা আগে বড় সিদ্ধান্ত, ৮০০০ অফিসার দিতে প্রস্তুত নবান্ন—রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


সুপ্রিম কোর্টের শুনানির ২৪ ঘণ্টা আগে বড় সিদ্ধান্ত, ৮০০০ অফিসার দিতে প্রস্তুত নবান্ন—রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা
সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানির ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, প্রয়োজনে প্রায় ৮০০০ অফিসার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে রাজ্য সরকার। এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও জল্পনা।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য নির্দেশ মাথায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সরকারের যুক্তি, যেকোনও পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কাজ যাতে ব্যাহত না হয় এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
তবে বিরোধী শিবির এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চোখে দেখছে। তাঁদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের শুনানির আগেই এত বড় সংখ্যায় অফিসার প্রস্তুত রাখার ঘোষণা প্রমাণ করছে যে সরকার চাপের মুখে রয়েছে এবং সম্ভাব্য নির্দেশ নিয়ে আশঙ্কায় ভুগছে। বিরোধী নেতাদের একাংশের বক্তব্য, “আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার বদলে আগে থেকেই রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি নিছক প্রশাসনিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আদালতের শুনানি ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের সম্পর্ক, আমলাতন্ত্রের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য অনেক বড়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণের পর এই প্রস্তুতি নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
নবান্নের তরফে যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, এটি রুটিন প্রশাসনিক প্রস্তুতি ছাড়া অন্য কিছু নয়। সরকারের দাবি, আদালতের নির্দেশ মানা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সচল রাখা—দুই দিকই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
কিন্তু বাস্তব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ফলে সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন শুনানিকে ঘিরে উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
এখন নজর আদালতের দিকেই। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের উপর নির্ভর করছে পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে—এই লড়াই শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
