“SIR-এ বাধা বরদাস্ত করা হবে না” — সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা, আদালতে মুখোমুখি রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন

“SIR-এ বাধা বরদাস্ত করা হবে না” — সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা, আদালতে মুখোমুখি রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

2/10/20261 min read

“SIR-এ বাধা বরদাস্ত করা হবে না” — সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা, আদালতে মুখোমুখি রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক লড়াই এবার সরাসরি পৌঁছে গেল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা বা বিঘ্ন বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ কার্যত রাজনৈতিক মহলের উদ্দেশেই কড়া বার্তা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, SIR একটি নিয়মিত ও আইনি প্রক্রিয়া, যার লক্ষ্য ভোটার তালিকাকে নির্ভুল করা। কমিশনের বক্তব্য, মাঠপর্যায়ে কাজ করা আধিকারিকদের কাজে বাধা, উত্তেজনা বা চাপ সৃষ্টি হলে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে বিপজ্জনক। কমিশন আরও জানায়, নির্ধারিত বিধি মেনেই বাড়ি বাড়ি যাচাই চলছে এবং প্রক্রিয়াকে থামানোর কোনও কারণ নেই।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরা হয়। রাজ্যের বক্তব্য, বহু জায়গায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রক্রিয়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজ্য দাবি করে, নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা তাদের দায়িত্ব।
তবে শুনানির সময় আদালতের সুর ছিল স্পষ্ট এবং কঠোর। বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণে জানান, ভোটার তালিকা সংশোধন নির্বাচন ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ, তাই সেটিকে রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে থামিয়ে দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে আদালত ইঙ্গিত দেয়, প্রক্রিয়ায় অযথা বাধা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে তা গুরুতরভাবে দেখা হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই পর্যবেক্ষণ শুধু একটি মামলার সীমায় আবদ্ধ নয়; এটি নির্বাচন ঘিরে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সংঘাতের প্রতিফলন। ভোটের আগে প্রশাসনিক প্রতিটি ধাপই এখন রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান হয়ে উঠছে, এবং সেই সংঘাতই শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে দ্রুত। বিরোধী শিবির দাবি করেছে, আদালতের মন্তব্য প্রমাণ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছিল। পাল্টা শাসকদলের বক্তব্য, তারা মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্যই বিষয়টি আদালতে তুলেছে এবং আদালতও নাগরিক অধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, SIR নিয়ে এই আইনি লড়াই আপাতত থামার নয়। বরং আদালতের প্রতিটি পর্যবেক্ষণই আগামী দিনে রাজনৈতিক প্রচারের অস্ত্র হয়ে উঠবে। ফলে স্পষ্ট, ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে আদালত, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দল—এই ত্রিমুখী সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।