'বন্দে মাতরম' চললে উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক! জাতীয় গান নিয়ে ঐতিহাসিক নির্দেশিকা কেন্দ্রের
'বন্দে মাতরম' চললে উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক! জাতীয় গান নিয়ে ঐতিহাসিক নির্দেশিকা কেন্দ্রের
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিদেশ


'বন্দে মাতরম' চললে উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক! জাতীয় গান নিয়ে ঐতিহাসিক নির্দেশিকা কেন্দ্রের
নিজস্ব প্রতিনিধি, দিল্লি: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি 'বন্দে মাতরম'-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বুধবার ১০ পাতার একটি দীর্ঘ নির্দেশিকা জারি করে সাফ জানানো হয়েছে, এবার থেকে নির্দিষ্ট সরকারি ও আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় উপস্থিত সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে। এর পাশাপাশি গানের সময়সীমা এবং ক্রমপর্যায় নিয়েও সুনির্দিষ্ট বিধি বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
কী কী নিয়ম বলবৎ হলো?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকায় ৫টি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
সময়সীমা ও স্তবক: আগে সাধারণত বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া হতো। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে গানটির ৬টি স্তবকই গাইতে হবে। এই সম্পূর্ণ গানের জন্য বরাদ্দ সময় ধরা হয়েছে ১৯০ সেকেন্ড বা ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। (তুলনামূলকভাবে জাতীয় সংগীত গাইতে সময় লাগে ৫২ সেকেন্ড)।
উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক: সরকারি অনুষ্ঠান, পদ্ম পুরস্কারের মতো অসামরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান এবং রাষ্ট্রপতির আগমন বা প্রস্থানের সময় বন্দে মাতরম চললে উপস্থিত সকলকে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হবে।
ক্রমপর্যায়: যদি কোনো অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত (Jana Gana Mana) এবং জাতীয় গান (Vande Mataram) উভয়ই পরিবেশিত হয়, তবে বন্দে মাতরম আগে গাইতে হবে। তারপর গাওয়া হবে জাতীয় সংগীত।
মৃদঙ্গের ব্যবহার: নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্যান্ডে গানটি বাজার আগে সাতটি ছন্দের একটি বিশেষ ড্রাম-রোল বা মৃদঙ্গ ধ্বনি বাজাতে হবে, যাতে শ্রোতারা সতর্ক হতে পারেন।
স্কুলে বাধ্যতামূলক: স্কুলগুলোতে প্রতিদিনের প্রার্থনাসভার সময় সমবেত কণ্ঠে বন্দে মাতরম গাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সিনেমা হলের ক্ষেত্রে নিয়ম কী?
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে যে, সিনেমা হলে বা কোনো তথ্যচিত্রের মধ্যে যদি এই গানটি থাকে, তবে সেখানে দর্শকদের উঠে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। কারণ, এতে সিনেমা দেখার ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষে এই গানের গরিমা এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই প্রোটোকল তৈরি করা হয়েছে। তবে ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস এই গানের কিছু অংশ বাদ দিয়েছিল বলে যে পুরনো বিতর্ক রয়েছে, কেন্দ্রের এই 'পূর্ণাঙ্গ ৬ স্তবক' গাওয়ার নির্দেশে সেই রাজনৈতিক তর্জা আবারও নতুন করে মাথা চাড়া দিতে পারে।
