ডিএ মামলায় আদালতে চরম ধাক্কা রাজ্যের, তীব্র ভর্ৎসনা

ডিএ মামলায় আদালতে চরম ধাক্কা রাজ্যের, তীব্র ভর্ৎসনা

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

2/7/20261 min read

ডিএ মামলায় আদালতে চরম ধাক্কা রাজ্যের, তীব্র ভর্ৎসনা—‘প্রাপ্য আটকে রাখা চলবে না’

আর্থিক সঙ্কটের যুক্তি খারিজ, নির্দেশ মানতে গড়িমসিতে কড়া অবস্থান আদালতের; রাজনৈতিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা

ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত মামলায় আদালতে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ল রাজ্য সরকার। শুনানির সময় রাজ্যের পেশ করা যুক্তিকে একের পর এক খারিজ করে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রেখে প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না। বিচারপতিদের কড়া পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, বিষয়টি আর শুধু আর্থিক নয়, প্রশাসনিক সদিচ্ছা ও জবাবদিহির প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।

শুনানির সময় রাজ্যের তরফে আর্থিক সঙ্কটের যুক্তি সামনে আনা হয়। তবে বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, আর্থিক সমস্যার অজুহাতে আদালতের নির্দেশ কার্যকর না করা গ্রহণযোগ্য নয়। বিচারপতিদের মন্তব্য, আইনের শাসন মানতে হলে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেই হবে—তা যত কঠিনই হোক।

কর্মচারী সংগঠনগুলির আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেন, রাজ্য পরিকল্পিতভাবে সময় নষ্ট করছে এবং বাস্তবে নির্দেশ কার্যকর করার কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে প্রাপ্য ভাতা না পেয়ে কর্মচারীরা আর্থিক চাপে পড়ছেন, অথচ প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কার্যত নীরব।

আইন মহলের একাংশের মতে, আদালতের এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক মহলেও চাপ বাড়াবে। কারণ ডিএ ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের কর্মচারীদের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু, এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ সেই ক্ষোভকে আরও উস্কে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন এই রায়কে ‘নৈতিক জয়’ বলে দাবি করতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর আইনি পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তবে প্রয়োজনে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিএ ইস্যু এখন শুধুই আদালতের মামলা নয়, এটি ক্রমশ বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের অসন্তোষ, বিরোধীদের আক্রমণ এবং আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ—সব মিলিয়ে রাজ্য সরকারের ওপর চাপ যে আরও বাড়বে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।

পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর সবার। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্য কতটা দ্রুত পদক্ষেপ করে, সেটাই নির্ধারণ করবে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেবে।