শহর কলকাতায় এবার ‘রক্ত চা’! পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ চা শ্রমিকদের
শহর কলকাতায় এবার ‘রক্ত চা’! পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ চা শ্রমিকদের
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিভোট 26


শহর কলকাতায় এবার ‘রক্ত চা’! পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ চা শ্রমিকদের
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: দার্জিলিংয়ের বিশ্বখ্যাত চা কিংবা তরাই-ডুয়ার্সের কড়া লিকার—চায়ের স্বাদে বাঙালি বরাবরই মজে। কিন্তু বুধবার কলকাতার রাজপথ সাক্ষী থাকল এক অদ্ভুত ও মর্মান্তিক পানীয়ের, যার নাম ‘রক্ত চা’ বা ‘ব্লাড টি’। না, এটি কোনো নতুন বাণিজ্যিক ফ্লেভার নয়; বরং উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের শোষণ ও বঞ্চনার এক প্রতীকী প্রতিবাদ।
কেন এই ‘রক্ত চা’?
এদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা বাগান থেকে কয়েকশো শ্রমিক কলকাতার নব মহাকরণের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের অভিযোগ, যে চা খেয়ে মানুষ সতেজ হন, তার প্রতিটি পাতায় মিশে আছে শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনি, ঘাম আর রক্ত। অথচ বিনিময়ে জোটে নামমাত্র পারিশ্রমিক। এই বঞ্চনা বোঝাতেই প্রতীকীভাবে ‘রক্ত দিয়ে চা’ বানিয়ে প্রতিবাদ জানান তাঁরা।
আন্দোলনের মূল দাবি:
শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মতে, বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে চা শ্রমিকদের মজুরি অত্যন্ত নগণ্য। তাঁদের দাবিগুলি হলো:
পারিশ্রমিক বৃদ্ধি: বর্তমানে ঘোষিত ২৫০ টাকা পারিশ্রমিকের বদলে শ্রমিকদের হাতে পৌঁছায় মাত্র ২২০ টাকা। এই টাকায় সংসার চালানো অসম্ভব।
বকেয়া পাওনা: বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে পাওনা ন্যায্য মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ: বাগান কর্তৃপক্ষ দাবি না মানায় সরাসরি নবান্ন ও প্রশাসনিক অলিন্দে বার্তা পৌঁছানো।
"কলকাতার মানুষ যে চা খান, সেটা আসলে চা নয়; চা শ্রমিকদের ঘাম আর রক্তে তৈরি ফসল। প্রতিদিন শোষিত হচ্ছে আমাদের শ্রমিকরা। ২৫০ টাকা খাতা-কলমে থাকলেও হাতে পায় ২২০ টাকা। এই টাকায় কি বর্তমান দিনে সংসার চলে?" — অজয় এডওয়ার্ডস (শ্রমিক নেতা)
সরগরম কলকাতার রাজপথ
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে অপর এক নেতা রাজেশ লাখড়া সরব হন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, "প্রশাসনের কর্তারা কলকাতায় বসে সব জেনেও চুপ। ডুয়ার্সকে শুধু পর্যটন কেন্দ্র ভাবলে ভুল হবে। আমাদের দাবি পূরণ না হলে পাহাড়-জঙ্গল ছেড়ে আমরা এভাবেই কলকাতায় আন্দোলনে আসব।"
রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, চা বলয়ের এই অসন্তোষ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ইভিএম-এ বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে উত্তরবঙ্গে দফায় দফায় আন্দোলন হলেও সমাধান না মেলায় এবার আন্দোলনের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠল তিলোত্তমা। দাবি পূরণ না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতৃত্ব।
