ট্রেনের শৌচালয়ে নেই চেন-বাঁধা মগ! রেলের নয়া পদক্ষেপে বিপাকে যাত্রীরা: শৌচকর্ম সারবেন কীভাবে?
ট্রেনের শৌচালয়ে নেই চেন-বাঁধা মগ! রেলের নয়া পদক্ষেপে বিপাকে যাত্রীরা: শৌচকর্ম সারবেন কীভাবে?
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গদেশরাজনীতি


ট্রেনের শৌচালয়ে নেই চেন-বাঁধা মগ! রেলের নয়া পদক্ষেপে বিপাকে যাত্রীরা: শৌচকর্ম সারবেন কীভাবে?
নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের মাঝে এবার এক বিচিত্র সংকটে সাধারণ যাত্রীরা। দূরপাল্লার ট্রেনের শৌচালয় থেকে উধাও হচ্ছে চেন-বাঁধা সেই পরিচিত মগগুলো। রেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে মগ সরিয়ে নেওয়ার জেরে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। প্রশ্ন উঠছে, শৌচকর্ম সারতে গিয়ে যাত্রীরা কি তবে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির মুখে পড়বেন?
কেন সরানো হচ্ছে মগ?
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনের শৌচালয় থেকে মগ চুরির ঘটনা নতুন কিছু নয়। অনেক ক্ষেত্রে চেন ছিঁড়ে মগ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া শৌচালয়ের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতেই অনেক জায়গায় মগ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ এখন তুঙ্গে।
যাত্রীদের অভিযোগ ও ক্ষোভ:
ট্রেনের শৌচালয়ে গিয়ে মগ না পেয়ে কার্যত অসহায় বোধ করছেন বয়স্ক থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীরা।
অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি: মগ না থাকায় বাধ্য হয়ে যাত্রীরা জলের বোতল বা অন্য বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রশ্ন উঠছে পরিষেবা নিয়ে: টিকিটের দাম বাড়লেও ন্যূনতম পরিষেবায় কেন এমন টান? শৌচকর্মের মতো মৌলিক বিষয়ে রেলের এই 'উদাসীনতা' নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা।
এক ক্রুদ্ধ যাত্রীর কথায়: "রেল বলছে তারা হাই-টেক হচ্ছে, কিন্তু একটা মগ পর্যন্ত দেওয়ার ক্ষমতা নেই? চেন দিয়ে বাঁধা মগটা পর্যন্ত চুরি আটকাতে না পেরে তুলে দেওয়া হলো, এতে সাধারণ মানুষেরই তো কষ্ট।"
রেলের বিকল্প ভাবনা কী?
শৌচালয় থেকে মগ সরিয়ে নেওয়ার পর রেলের একাংশের দাবি, বন্দে ভারত বা প্রিমিয়াম ট্রেনের মতো সব ট্রেনেই ধীরে ধীরে 'জেট স্প্রে' (Jet Spray) বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা হবে। কিন্তু যে সব এক্সপ্রেস বা প্যাসেঞ্জার ট্রেনে এখনও সেই ব্যবস্থা নেই, সেখানে মগ সরিয়ে নেওয়া মানে যাত্রীদের চরম অস্বস্তিতে ফেলা।
উপসংহার:
রেল যখন বিশ্বমানের পরিষেবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তখন সাধারণ ট্রেনের শৌচালয়ে একটা মগ না থাকা নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক কার্যত রেলের ভাবমূর্তিতে ধাক্কা দিচ্ছে। আদৌ কি দ্রুত এর কোনো স্থায়ী সমাধান হবে, নাকি এভাবেই ভোগান্তি সঙ্গী করেই রেল যাত্রা করতে হবে সাধারণ মানুষকে?
