জাতীয় সড়কের টোলে নগদ লেনদেন বন্ধের তোড়জোড়
জাতীয় সড়কের টোলে নগদ লেনদেন বন্ধের তোড়জোড়
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গদেশ
জাতীয় সড়কের টোলে নগদ লেনদেন বন্ধের তোড়জোড়: ২০০৬-এর আন্দোলনের স্মৃতি উসকে বড়সড় প্রতিবাদের ডাক বাস সংগঠনগুলোর
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জাতীয় সড়কের টোল প্লাজাগুলোতে নগদ টাকার লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ করে নতুন নিয়ম চালুর তোড়জোড় শুরু করেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI)। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই নতুন করে দানা বাঁধছে বিতর্ক। বিশেষ করে বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০০৬ সাল থেকে চলে আসা প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে কোনো নতুন নিয়ম চাপিয়ে দিলে রাজ্যজুড়ে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাস মালিক সংগঠনগুলো।
ধূলাগোড়ির সেই ঐতিহাসিক আন্দোলন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে এ রাজ্যে প্রথম হাওড়ার ধূলাগোড়িতে টোল প্রথা চালু হয়েছিল। সেই সময় ব্যাপক বিক্ষোভ ও আন্দোলনের জেরে বাস থেকে টোল নেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে লোকাল ও এক্সপ্রেস বাসের জন্য একটি নির্দিষ্ট টোল ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা আজও বহাল রয়েছে। পরিবহণ কর্মীদের দাবি, এই দীর্ঘকালীন সমঝোতাকে উপেক্ষা করে নতুন কোনো নিয়ম চালু করা হলে সাধারণ যাত্রী ও বাস মালিক—উভয়ই চরম সংকটে পড়বেন।
রাজ্য বনাম ওডিশা: টোল পাসের বৈষম্য
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন টোল প্লাজায় বাসগুলোর জন্য মাসিক পাসের হারে ব্যাপক বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে:
ওডিশার মতো প্রতিবেশী রাজ্যে বাসের জন্য মাত্র ১০০০ টাকার মাসিক পাস চালু রয়েছে।
সেখানে আমাদের রাজ্যে সেই পাসের খরচ ৬০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। এই বিপুল অঙ্কের টোল ফি দিয়ে লোকাল বাস চালানো কার্যত অসম্ভব বলে মনে করছেন বাস মালিকরা।
সমাধানহীন বৈঠক ও ক্ষোভের আগুন
পরিবহণ সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমস্যা নিয়ে বারবার NHAI আধিকারিকদের সাথে বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। অনেক ক্ষেত্রে কোনো সুযোগ-সুবিধা না দিয়েই অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। সংগঠনের এক সদস্যের কথায়, "আগামী সপ্তাহে আমরা টোল প্লাজায় গিয়ে ২০০৬ সালের সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের কথা প্রশাসনকে স্মরণ করিয়ে দেব।"
চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি
বাস ও মিনিবাস সংগঠনগুলোর সাফ কথা, কোনোভাবেই প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে নতুন কোনো নিয়ম বা ফি চাপানো যাবে না। যদি জোর করে নগদ লেনদেন বন্ধ করে বাসগুলোকে বাড়তি টোলের মুখে ফেলা হয়, তবে আগামী দিনে বড়সড় পথ অবরোধ ও আন্দোলনের পথে হাঁটবে তারা।
এখন দেখার, আগামী সপ্তাহের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
রাহুল চট্টোপাধ্যায়
সাধারন সম্পাদক
অল বেঙ্গল বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতি
