ঘোষণার ঝড়, বাড়তি ব্যয়ের চাপ ও ঋণের প্রশ্ন—পশ্চিমবঙ্গের বাজেট নিয়ে তীব্র বিতর্ক
ঘোষণার ঝড়, বাড়তি ব্যয়ের চাপ ও ঋণের প্রশ্ন—পশ্চিমবঙ্গের বাজেট নিয়ে তীব্র বিতর্ক
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


ঘোষণার ঝড়, বাড়তি ব্যয়ের চাপ ও ঋণের প্রশ্ন—পশ্চিমবঙ্গের বাজেট নিয়ে তীব্র বিতর্ক
সামাজিক প্রকল্পে জোর, নগদ সহায়তা বৃদ্ধি; অর্থনীতির ভিত্তি কতটা মজবুত—উঠছে বড় প্রশ্ন
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বাজেট আবারও স্পষ্ট করে দিল, রাজ্য সরকার সামাজিক সুরক্ষা ও ভর্তুকিনির্ভর প্রকল্পকে অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রে রাখতে চাইছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুব ভাতা, কৃষি সহায়তা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধির ঘোষণায় সাধারণ মানুষের একাংশ স্বস্তি পেলেও অর্থনীতিবিদ ও বিরোধী মহলের এক বড় অংশ প্রশ্ন তুলছে—এই ব্যয়ের চাপ দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের অর্থনীতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে।
বাজেটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সরাসরি নগদ সহায়তা ও ভাতা বাড়ানো। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘোষণা সাধারণত জনমত প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবেই দেখা হয়। তবে সরকারের যুক্তি, মূল্যবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার সময়ে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পই নিম্নবিত্ত ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখার প্রধান উপায়।
কিন্তু সমালোচকদের বক্তব্য, রাজ্যের আয়ের উৎস সেই হারে বাড়ছে না, যেভাবে ব্যয় বাড়ছে। শিল্প বিনিয়োগ ও বড় কর্মসংস্থানের প্রকল্পের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম—এই অভিযোগ নতুন নয়। রাজস্ব ঘাটতি ও ঋণের বোঝা ইতিমধ্যেই বড় আকার নিয়েছে বলে অর্থনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। ফলে ভবিষ্যতে সুদ ও ঋণ পরিশোধে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হলে উন্নয়নমূলক প্রকল্পে চাপ পড়তে পারে।
অন্যদিকে সরকার দাবি করছে, অবকাঠামো, কৃষি ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা আগামী কয়েক বছরে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সহায়তা করবে। প্রশাসনের যুক্তি, সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি—দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বাজেট তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধীদের অভিযোগ, এটি “ভোটমুখী বাজেট”, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কারের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি জনপ্রিয় প্রকল্পকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাল্টা শাসকদলের বক্তব্য, মানুষের হাতে টাকা পৌঁছানোই অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার বাস্তব পথ।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের এবারের বাজেট একদিকে জনকল্যাণমূলক ঘোষণা ও সামাজিক সুরক্ষার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্নও উস্কে দিচ্ছে। আগামী সময়ে রাজস্ব বৃদ্ধি, শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বাস্তব অগ্রগতি—এই তিনটি সূচকই ঠিক করে দেবে বাজেটের প্রকৃত সাফল্য কতটা।
