বাজেটে মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ল, কর বৃদ্ধির পথে কেন্দ্র

বাজেটে মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ল, কর বৃদ্ধির পথে কেন্দ্র

ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গদেশ

2/2/20261 min read

a glass of whiskey and a cigar on a table
a glass of whiskey and a cigar on a table

বাজেটে মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ল, কর বৃদ্ধির পথে কেন্দ্র

২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে মদ ও সিগারেটের উপর কর বাড়ানোর ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। সংসদে বাজেট ভাষণে তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্য ও মদের উপর অতিরিক্ত শুল্ক ও সেস আরোপ করা হচ্ছে। এর ফলে নতুন আর্থিক বছরে এই সমস্ত পণ্যের দাম আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাজেট ঘোষণায় জানানো হয়েছে, সিগারেট, তামাক এবং অন্যান্য নেশাজাত পণ্যের উপর এক্সাইজ ডিউটি ও স্বাস্থ্য সেস বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণির অ্যালকোহলিক পানীয়ের উপর কর কাঠামোও কঠোর করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন রাজস্ব আয় বাড়াবে, অন্যদিকে তামাক ও মদের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতেও সহায়ক হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তামাক ও অ্যালকোহলজনিত রোগ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। তাই বাজেটের মাধ্যমে ‘স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার’ দিয়ে নেশাজাত পণ্যের ব্যবহার কমানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। কর বৃদ্ধির ফলে সিগারেট ও মদের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই পণ্যের চাহিদা কমবে বলে সরকারের আশা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটে এই তথাকথিত ‘সিন ট্যাক্স’ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নতুন নয়, তবে এবছর তা আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, ব্যবসায়ী মহলের একাংশের দাবি—হঠাৎ কর বৃদ্ধিতে বিক্রি ও ব্যবসার উপর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে সরকারের যুক্তি, কর বৃদ্ধির ফলে যে অতিরিক্ত রাজস্ব আসবে, তা স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, চিকিৎসা পরিষেবা এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির সঙ্গেও এই সিদ্ধান্তকে যুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাধারণ ভোক্তাদের জন্য এই ঘোষণার সরাসরি প্রভাব পড়বে দৈনন্দিন খরচে। বাজেট কার্যকর হওয়ার পর বিভিন্ন রাজ্যে কর কাঠামো অনুযায়ী মদের দাম ও সিগারেটের খুচরো মূল্যে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

সার্বিকভাবে, ২০২৬–২৭ বাজেটে মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্রের একদিকে রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশল, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য রক্ষার বার্তা—এই দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

copy:ujjal roy.kolkata