বহুজাতিক কোম্পানিকে দাবি মানতে বাধ্য করলো সিটু, হার না মানা হারের জেদেই সাফল্য পেলো 'রাইডার'রা
বহুজাতিক কোম্পানিকে দাবি মানতে বাধ্য করলো সিটু, হার না মানা হারের জেদেই সাফল্য পেলো 'রাইডার'রা
ট্রেন্ডিংপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি


বহুজাতিক কোম্পানিকে দাবি মানতে বাধ্য করলো সিটু, হার না মানা হারের জেদেই সাফল্য পেলো 'রাইডার'রা
দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম। রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষের বাড়িতে পণ্য পৌঁছে দেওয়াই ওদের কাজ। তবুও প্রতিদিনই শোষণ চলছিলোই। আয় খুবই কম, নেই কাজের নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা, এমনকি জীবনেরও কোনো গ্যারান্টি নেই। এমনকি এদের নেই ‘শ্রমিক’-এর স্বীকৃতিটুকু। ইতিমধ্যে দেশের কয়েকটি রাজ্যে এই অংশের শ্রমিকদের জন্যে কিছু নির্দিষ্ট আইন তৈরি হলেও পশ্চিমবঙ্গে হয়নি। একদিকে সব আন্তর্জাতিক বৃহৎ কর্পোরেট মালিক, অন্যদিকে সুরক্ষার আইনটুকুও নেই। এহেন অসহায়তার মুখেই লড়ে যেতে হয় এই কাজে যুক্ত হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের।
এহেন পরিস্থিতির বদল ঘটতে কি চলেছে? না কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নয়, ওয়েস্ট বেঙ্গল গিগ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাম্প্রতিকতম আন্দোলনের জয়ের ফলেই তৈরি হয়েছে তেমন সম্ভবনা।
পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম শ্রমিক-মালিক-শ্রমদপ্তরের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে গত ৬-ই মার্চ। এই অভূতপূর্ব ত্রিপাক্ষিক বৈঠকেই ইউনিয়নের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে ফ্লিপকার্ট মিনিটস কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত ১৭-২০ জানুয়ারি অবধি একগুচ্ছ দাবিতে টানা ধর্মঘট করেন ফ্লিপকার্ট মিনিটস তারাতলা হাবের ডেলিভারি বয়েরা। সিটু অনুমোদিত গিগ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ঝাণ্ডার তলায় সেই ধর্মঘটে কর্মীদের সবকটি দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল কোম্পানি। যদিও নেতৃত্বদানকারী ৫ জন কর্মীর আইডি পাকাপাকি বন্ধ করে দিয়ে তারা শাস্তি দিয়েছিল ধর্মঘটীদের। কিন্তু ইউনিয়নের নাছোড় লড়াইয়ের ফলে ওয়ালমার্টের মতো বৃহৎ কর্পোরেটের মালিকানাধীন এই কোম্পানির আধিকারিকেরা বাধ্য হন ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে। নজিরবিহীন এই বৈঠকে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয় ইউনিয়নের দাবি মেনে পাঁচজন কর্মীর আইডি খুলে দিতে। তাঁরা প্রত্যেকেই পুনরায় ওই হাবেই কাজে যুক্ত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেবল একটা ছোট লড়াইয়ের জয় হিসেবে না দেখে, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই দেখতে চাইছে ওয়িবহাল মহল। অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনায় প্রায় নিঃশব্দেই এক ইতিহাস তৈরি হয়েছে রাজ্যে। ইউনিয়নের নেতৃত্ব দাবি করছেন, “আপাতত প্রথমবারের জন্যে এজাতীয় কোম্পানিকে শ্রমদপ্তরে টেনে এনে দাবি আদায় করতে পেরেছি আমরা, ভবিষ্যতে সরকারকেও বাধ্য করব গিগ কর্মীদের জন্যে সুনির্দিষ্ট আইন বানাতে।” রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন আসন্ন, রাজ্যের কয়েক হাজার ডেলিভারি কর্মীর জন্যে আইনী সুরক্ষার দাবি সেখানে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই দেখার।
